রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মায়েদের গায়ে হাত দিলে আমরা বসে থাকব না: জামায়াত আমির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

মায়েদের গায়ে হাত দিলে আমরা বসে থাকব না: জামায়াত আমির

নির্বাচনি প্রচারণার সময় নারী কর্মীদের ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "যদি আর কেউ মায়েদের গায়ে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে আমরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না; আমরা গর্জে উঠব।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বালিকা ক্যাম্পাস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভোটের প্রচারে ভাইদের পাশাপাশি মা-বোনেরা যাবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু জায়গায় তাদের হেনস্থা করা হচ্ছে। যারা মায়েদের গায়ে হাত তুলেছ, তারা তওবা করো, ভবিষ্যতে এমন অপকর্মের চিন্তা করো না। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারী জাতিকে প্রকৃত মায়েরা মর্যাদা দেবে এবং প্রতিটি ঘর হবে জান্নাতি ঘর। 

নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত, কর্মক্ষেত্রে বেবি কর্নার, ব্রেস্ট ফিডিং জোন এবং ডে-কেয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।আলোচিত ৫ ঘণ্টা কর্মঘণ্টার প্রস্তাব নিয়ে তিনি বলেন, "মায়েরা রাষ্ট্রের বুনিয়াদ। তাদের জন্য পুরুষের সমান ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা অনেক ক্ষেত্রে অবিচার। আমরা এটি ৫ ঘণ্টা করতে চাই যাতে তারা সন্তানদের সময় দিতে পারেন এবং চাকরিও না ছাড়তে হয়। তবে কেউ স্বেচ্ছায় ৮ ঘণ্টা করতে চাইলে তাকে স্বাগত জানানো হবে।" এছাড়া নারীদের জন্য মার্কেটে পর্যাপ্ত ওজু-নামাজ ও ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়া মানে আজাদী এবং ফ্যাসিবাদকে রুখে দেওয়া। তিনি ইনসাফের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’কে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা বেকার ভাতার নামে তরুণদের অপমান করতে চাই না, বরং তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে মা-বোনদের ইজ্জতের এবং ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ।ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসার সভাপতিত্বে সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশটি মিরপুর এলাকার কয়েক হাজার নারী ভোটারের উপস্থিতিতে এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।