সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১২:১০ পিএম
নিয়মিত ব্যবহারের কারণে প্লাস্টিকের বালতির তলায় অনেক সময় ছোট ছিদ্র তৈরি হয়, কিংবা কোথাও চাপ লেগে ফাটল দেখা দিলে পানি চুইয়ে পড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে অনেকেই বালতিটি অকেজো ভেবে সরাসরি ফেলে দেন।
তবে সামান্য কৌশলেই এই পুরোনো জিনিসটি আবার ব্যবহারের উপযোগী করা যায়। মেরামতের কাজে হাত দেওয়ার আগে প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রথমে বালতিটি ভালো করে ধুয়ে ফাটল বা ছিদ্রের চারপাশ থেকে সব ধরনের ধুলাবালি, ময়লা ও তেলতেলে ভাব পুরোপুরি পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে জায়গাটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া দরকার। পৃষ্ঠতল ভেজা বা তেলযুক্ত থাকলে কোনো আঠা কিংবা মেরামতি উপাদান ঠিকমতো বসবে না।
একটি প্রচলিত পদ্ধতি হলো একই ধরনের প্লাস্টিকের বাড়তি টুকরো ব্যবহার করে জোড়া লাগানো। এ ক্ষেত্রে সরাসরি লাইটার বা আগুনের শিখা দিয়ে প্লাস্টিক গলানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এই কাজ করতে হলে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল রয়েছে এমন খোলা জায়গায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে গলিত প্লাস্টিকের বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে ভেতরে না যায়। ছিদ্রের ওপর মাপমতো প্লাস্টিকের টুকরো বসিয়ে বিশেষায়িত প্লাস্টিক ওয়েল্ডিং সরঞ্জামের সাহায্যে জোড়া লাগানো অনেক বেশি নিরাপদ ও টেকসই। তবে প্লাস্টিকের ধরন আলাদা হলে এই জোড়া দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।
ছোট আকারের ছিদ্র বা সরু ফাটল বন্ধে সুপার গ্লু এবং বেকিং সোডার সংমিশ্রণ বেশ কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ফাটলের শুকনো স্থানে অল্প পরিমাণ সুপার গ্লু লাগিয়ে তার ওপর সামান্য বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এর ওপর আঠার আরেকটি স্তর দিলে দ্রুত একটি শক্ত আবরণ তৈরি হয়। তবে বালতিতে যদি নিয়মিত ফুটন্ত গরম পানি ঢালা হয় কিংবা ভারী জিনিস বহন করা হয়, তবে এই আবরণের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা উচিত নয়।
ঘরে গ্লু গান থাকলে গরম আঠার সাহায্যেও সাময়িক সমাধান মিলতে পারে। বালতি পুরোপুরি শুকিয়ে নিয়ে আঠা লাগানোর পর চারদিকে সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে ভেতর ও বাইরে উভয় পাশে আঠার প্রলেপ দেওয়া যায়। তবে সাধারণ হট গ্লু সব প্লাস্টিকের ওপর সমান শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করে না এবং দীর্ঘসময় একটানা পানির সংস্পর্শে থাকলে আলগা হয়ে যেতে পারে।
ছিদ্রটি যদি আকারে কিছুটা বড় হয়, তবে বাজারে প্রচলিত পানি নিরোধক বা ওয়াটারপ্রুফ রিপেয়ার টেপ ব্যবহার করা সুবিধাজনক। লিকের চারপাশ ঢেকে শক্তভাবে টেপ সেঁটে দিতে হয়। আরও মজবুত ফলাফলের জন্য প্লাস্টিক মেরামতের উপযোগী ইপক্সি ব্যবহার করা যায়। এই ক্ষেত্রে নির্দেশিকা অনুযায়ী দুই ধরনের উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে ফাটলের ওপর লাগিয়ে শক্ত হতে সময় দিতে হয়।
মেরামত শেষ করেই সঙ্গে সঙ্গে বালতিতে পানি ভরা ঠিক নয়। ব্যবহৃত উপাদান পুরোপুরি শক্ত ও কার্যকর হওয়ার জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর প্রথমে অল্প পানি ঢেলে পরীক্ষা করে দেখতে হবে পানি চুইয়ে পড়া বন্ধ হয়েছে কি না।
বালতি যদি আকারে অতিরিক্ত ফেটে যায়, প্লাস্টিক রোদে শুকিয়ে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে কিংবা তলার মূল অংশ বড় ধরনের ফাটলে ভেঙে যায়, তবে তা মেরামত করে ভারী পানি বহনের ঝুঁকি না নেওয়াই নিরাপদ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন