সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দেশ সহিংস হয়ে উঠলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না: গোলাম পরওয়ার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

দেশ সহিংস হয়ে উঠলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না: গোলাম পরওয়ার

শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যার বিচার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে না পারলে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ সহিংস হয়ে উঠলে আসন্ন নির্বাচন কোনোভাবেই নিরপেক্ষ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। 

অধ্যাপক পরওয়ার বলেন যে শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে যেভাবে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে তা নির্বাচনকালীন রাজনীতির এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার না করলে নির্বাচনি সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে বিএনপির একদল সন্ত্রাসীর হামলায় মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালীন প্রথম প্রকাশ্য রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। 

তিনি সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন যে যদি এখনই খুনিদের আইনের আওতায় আনা না হয় তবে ভোটকেন্দ্রে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হতে পারে। জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ওপর বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে দেশ যদি এভাবে সহিংসতার দিকে ধাবিত হয় তবে সাধারণ ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ও বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন যে বিএনপির কোনো কোনো নেতা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন। তারা প্রকাশ্যে বলছেন যে দাঁড়িয়ে পাল্লা প্রতীকের প্রচারের জন্য নারীরা যদি বাড়ি বাড়ি যান তবে তাদের লাঞ্ছিত করা হবে। গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন যে যারা নির্বাচনের আগেই মা-বোনদের গায়ে হাত তুলতে চায় কিংবা কাপড় খুলে নেওয়ার হুমকি দেয় তারা ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষের জানমাল কতটা নিরাপদ থাকবে। 

তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি হত্যাকাণ্ড এবং চাঁদাবাজির সংস্কৃতি শুরু হয় তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ কোনো মানুষের জানমাল নিরাপদ থাকবে না। একটি নিরাপদ এবং ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে তিনি ভোটারদের দাঁড়িয়ে পাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।বাঞ্ছারামপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল বাশারের সভাপতিত্বে এই নির্বাচনি জনসভায় আরও অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অভিযোগ করেন যে প্রশাসনের নাকের ডগায় হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করছে না যা রহস্যজনক। তারা নির্বাচন কমিশনকে কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ জানান। 

জনসভায় জেলা জামায়াতের আমির মোবারক হোসেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের প্রার্থী মো. মহসিনসহ জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাঞ্ছারামপুর এলাকায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক জমায়েত লক্ষ্য করা গেছে। জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের এই কড়া বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।