মার্চ ৫, ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ এবং তাকে যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী লন্ডনে বসে এক বিশেষ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং জাতিকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করেছেন। তিনি মনে করেন যে জাতির আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার নেপথ্যে যারা ছিলেন তাদের স্বচ্ছতার স্বার্থেই আইনের মুখোমুখি করা প্রয়োজন।
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই খলিলুর রহমানের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। তিনি দাবি করেন যে সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যিনি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ছিলেন তিনি প্রথম দিনেই নিজের শপথের পরিপন্থী কাজ করে খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণে সহায়তা করেছিলেন।
জামায়াতের এই নেতার মতে এটি ছিল একটি গভীর ষড়যন্ত্রের পুরস্কার। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে খলিলুর রহমান সম্ভবত গোপনে বিএনপির সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতা করেছিলেন যেখানে নির্বাচনে সহায়তার বিনিময়ে তাকে মন্ত্রী করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় বিএনপির ভূমিকা নিয়েও তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন যে দলটির কি এতটাই লোকসংকট ছিল যে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে মন্ত্রী করতে হলো।সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এ দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল।
যারা এই স্বপ্নকে নষ্ট করেছে তারা মূলত জাতির সঙ্গে গাদ্দারি ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের মীর জাফর বলে আখ্যায়িত করেন। এছাড়া তিনি দাবি করেন যে সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নিজেই এই নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রাজসাক্ষী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এবং তাঁর দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমেই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তাই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে রিজওয়ানা হাসানের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জামায়াত নেতা আরও বলেন যে সরকার যদি সামান্যতম স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে চায় তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের পাশাপাশি তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ রহমানকেও মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তারা বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছেন। জনগণের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত একটি অবাধ নির্বাচনের স্বপ্নকে যারা নষ্ট করেছে তাদের জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করানোই এখন সময়ের দাবি। জাতির সামনে এই ষড়যন্ত্রের স্বরূপ পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন