মার্চ ৬, ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে। ১৩শ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সকালে দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কর্মসূচিতে জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জনগণের রায়কে পরিকল্পিতভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগে দুই সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে জামায়াত।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এ বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যই প্রমাণ করে যে নির্বাচনের ফলাফল সুকৌশলে পরিবর্তন করা হয়েছে। তাহেরের মতে, রিজওয়ানা হাসান নিজেই একজন ‘রাজসাক্ষী’ হিসেবে স্বীকার করেছেন যে নির্দিষ্ট কিছু দলকে মূলধারা বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ নকশা অনুযায়ী মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ায় সরকারের পুরো অংশ জড়িত ছিল নাকি কোনো বিশেষ পক্ষ নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে তা জাতির সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে বঞ্চিত করার পেছনে কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে তা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
রিজওয়ানা হাসানকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে তাঁর কাছ থেকে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় এই উপনেতা।অন্যদিকে, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ এনেছে জামায়াত। তাহের দাবি করেন, খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত অবস্থানের পরিপন্থী কাজ করেছেন। সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিরপেক্ষ থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, খলিলুর রহমান ‘লন্ডন ষড়যন্ত্রের’ মাধ্যমে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের সুবিধা নিশ্চিত করেছেন এবং সেই কাজের পুরস্কার হিসেবেই তাকে গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ আগে খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে সরব হলেও পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তাহের।
জামায়াত মনে করে, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পর্দার আড়ালে এক ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে জাতিকে সঠিক রায় থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যারা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল তাদের ‘মীর জাফর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ছাড়াও বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান উপস্থিত ছিলেন। আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি তাদের এই দাবিগুলো জোরালোভাবে রাজপথে তুলে ধরার পরিকল্পনা করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন