মার্চ ৭, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দি দিবস আজ। ২০০৭ সালের ৭ই মার্চ ভোরে তৎকালীন এক-এগারো সরকার কোনো প্রকার ওয়ারেন্ট ছাড়াই ঢাকার বাসভবন থেকে তাকে আটক করেছিল। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেই সময় তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ছিল মূলত দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্নকে বাধাগ্রস্ত করার একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ। দীর্ঘ ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো এই দিনটিকে রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করে আসছে।
মিডিয়া সেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং তাকে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক রাখা হয়।
তদন্তের নামে তাকে ছয় দফায় ১৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্যাতনের মুখে তাকে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ২০০৭ সালের নভেম্বরে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি নিজেই তার ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছিলেন। অমানবিক নির্যাতনের ফলে এক পর্যায়ে তার শরীরের গুরুতর অবনতি ঘটে এবং মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়াসহ নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।
চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালে উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন তারেক রহমান। এরপর চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পান। বিএনপি নেতাদের দাবি, ওয়ান-ইলেভেনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শতাধিক মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করলেও তিনি ভার্চুয়ালি দলের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করেন, শত প্রতিকূলতা ও আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের এই দীর্ঘ যাত্রা বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন