রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন

রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। 

এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে তাঁকে হেফাজতে নিতে এই রিমান্ডের আবেদন জানান।সংশ্লিষ্ট আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় লালবাগ এলাকায় হওয়া সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

এর আগে মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার আগে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে ডিবি পুলিশ। তিনি সেখানে তাঁর এক নিকটাত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে। আটকের পর তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় সাবেক এই স্পিকারের বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন হত্যা মামলাটি অন্যতম, যেখানে তাঁর পাশাপাশি সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, লালবাগ ছাড়াও উত্তরা ও বনানী থানায় তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সংবলিত মামলা রয়েছে। প্রতিটি মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে অন্যান্য মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানোর আইনি সুযোগ রয়েছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সাল থেকে টানা স্পিকারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান। সরকারের পতনের প্রায় এক মাস পর ২ সেপ্টেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আদালতের শুনানি শেষে তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর হবে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।