এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ প্রদান করেন। তবে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে আইনজীবীদের ভিড় ও প্রচণ্ড ঠেলাঠেলির মধ্যে সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে ব্যথায় চিৎকার করতে দেখা গেছে দেশের প্রথম এই নারী স্পিকারকে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটের দিকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তাঁকে রিমান্ড শুনানির জন্য এজলাসে তোলা হয়।
এ সময় আদালত কক্ষে পুলিশ, সাংবাদিক ও আইনজীবীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রচণ্ড গরম আর ভিড়ের মধ্যে এজলাসে তোলার সময়ই তিনি শারীরিকভাবে বেশ নাজেহাল হয়ে পড়েন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর রিমান্ড আবেদন নাকচ করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে নিয়ে হাজতখানার দিকে রওনা হন।
নিচে নামার সময় সিঁড়িতে উৎসুক জনতা ও আইনজীবীদের ভিড় ঠেলে এগোতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান সাবেক এই স্পিকার। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে তিনি যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠেন। এ সময় পাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাঁকে দ্রুত টেনে ধরেন এবং ভিড় সরিয়ে কোনোমতে হাজতখানায় নিয়ে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে উপস্থিত অনেকের মধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্রের আঘাতে আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে চোখে গুরুতর আঘাত পান। এই ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও অনেকের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী আশরাফুল। শিরীন শারমিন চৌধুরীকে এই মামলার অন্যতম প্রধান আসামি হিসেবে আজ ভোরে ধানমন্ডির এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতার একাধিক মামলা রয়েছে। আজকের শুনানিতে রিমান্ড নামঞ্জুর হলেও তদন্তের প্রয়োজনে পরবর্তীতে তাঁকে অন্য মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ থাকতে পারে। সাবেক স্পিকারের আইনজীবী তাঁর জামিন প্রার্থনা করলেও আদালত তা গ্রহণ না করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন