রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

আদালতে ভিড়ে নাজেহাল শিরীন শারমিন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

আদালতে ভিড়ে নাজেহাল শিরীন শারমিন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর দুই দিনের রিমান্ড শুনানি শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) দুপুরে তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

এ সময় পুলিশ ও আইনজীবীদের ভিড়ে রীতিমতো নাজেহাল হতে দেখা গেছে দেশের প্রথম এই নারী স্পিকারকে।আদালত সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটের দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে কড়া পুলিশি পাহারায় শিরীন শারমিনকে আদালত চত্বরে নিয়ে আসা হয়। 

শুরুতে তাঁকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে বেলা ৩টা ১০ মিনিটের দিকে হাজতখানা থেকে এজলাসে তোলার সময় আদালত প্রাঙ্গণে থাকা সাংবাদিক, উৎসুক আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের চাপে ব্যাপক ঠেলাঠেলির সৃষ্টি হয়। ভিড়ের কারণে এজলাসে পৌঁছাতে তাঁকে বেশ বেগ পেতে হয় এবং এ সময় তাঁর চোখে-মুখে নাজেহাল হওয়ার ছাপ স্পষ্ট ছিল।

লালবাগ জোনের কোতোয়ালি জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহসীন উদ্দীন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে শিরীন শারমিনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। বর্তমানে আদালতের এজলাসে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে রিমান্ডের ওপর শুনানি চলছে। গ্রেপ্তার পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে আজ ভোরে তাঁকে আটক করা হয়।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত বছরের ১৮ জুলাই বিকেলে লালবাগের আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক যুবকের চোখে গুলি লাগে। এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে লালবাগ থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী আশরাফুল। শিরীন শারমিন এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাবেক স্পিকারের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যা সংশ্লিষ্ট মোট ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩টি মামলায় ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং বাকি ৩টি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর স্পিকারের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। এর আগে ২০১৩ সাল থেকে তিনি টানা এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন ছিলেন।