রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সরকারি দল হয়তো খুব মেধাবী, তাই কাগজ দেখেই সব বুঝে ফেলেছে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

সরকারি দল হয়তো খুব মেধাবী, তাই কাগজ দেখেই সব বুঝে ফেলেছে

ডা. শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও দলিল না দেওয়ায় সংসদ কক্ষে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার বিকেলে ‘অর্থ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর বিল, ২০২৬’ সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাসের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ যখন বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য জানতে চান, তখনই তিনি এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। 

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি সরকারি দলের দ্রুত নথিপত্র বুঝে ফেলার সক্ষমতাকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন।বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর বক্তব্যে কার্য উপদেষ্টা কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন। 

তিনি জানান যে সেই বৈঠকে দুটি বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছিল। এর একটি ছিল ১৩৩টি অধ্যাদেশের সবকটি সংসদে উপস্থাপন করা এবং অন্যটি ছিল অধিবেশনের অন্তত তিন দিন আগে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংসদ সদস্যদের সরবরাহ করা। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে নথিপত্রগুলো অন্তত একদিন আগে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা রাখা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে অর্থনীতির ছাত্র না হওয়া সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রগুলো তাঁকে অধিবেশন চলাকালীন টেবিল দেওয়া হয়েছে যা পড়ে দেখার পর্যাপ্ত সময় ছিল না।ডা. শফিকুর রহমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন যে একদিকে যখন সংসদের কার্যক্রম চলছে তখন অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ নথিপত্র সদস্যদের টেবিলে জমা রাখা হয়েছে। 

নিজেকে ‘দুর্বল ছাত্র’ হিসেবে রসিকতা করে তিনি বলেন যে এত অল্প সময়ে নথিপত্রগুলো পড়ে কিছুই বুঝতে পারেননি। তাঁর মতে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে যদি কোনো বিষয় না বুঝে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়া হয় তবে তা নৈতিকভাবে অপরাধ হবে। এই দোটানার কারণেই তিনি সংসদীয় কার্যক্রমে চুপ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে স্পিকারকে অবহিত করেন।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি সরকারি দলের সদস্যদের মেধাকে শ্লেষাত্মক ভাষায় প্রশংসা করেন। জামায়াত আমির বলেন যে সরকারি দলের সদস্যরা সম্ভবত সবাই অত্যন্ত মেধাবী এবং তুখোড় অর্থনীতির ছাত্র। ফলে নথিপত্র দেখা মাত্রই তারা এর ভেতরে থাকা সব জটিল বিষয় সহজে বুঝে ফেলেছেন। কিন্তু সাধারণ বা ‘দুর্বল’ সদস্যদের পক্ষে সেটি সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি স্পিকারের কাছে এ বিষয়ে পরামর্শ চান। বিরোধীদলীয় নেতার এমন বক্তব্যে সংসদ কক্ষে কিছুটা থমথমে ও অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নথিপত্র সরবরাহের এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির দিকেই আঙুল তুলেছেন।