রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রাস্তা প্রশস্ত করার দাবি জানিয়ে হাসনাত বললেন, এলাকায় মুখ দেখাতে পারি না

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

রাস্তা প্রশস্ত করার দাবি জানিয়ে হাসনাত বললেন, এলাকায় মুখ দেখাতে পারি না

সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ

নিজের নির্বাচনি এলাকার জরাজীর্ণ রাস্তা সংস্কারের জন্য জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে অনেকটা ‘ভিক্ষা’ চাইলেন কুমিল্লা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে এই দাবি জানান। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেবীবদ্বার অংশটি সংস্কার ও প্রশস্ত করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। 

অন্যথায় এলাকার ক্ষুব্ধ জনগণ তাকে ঘিরে ধরতে পারে বা বেঁধে ফেলতে পারে বলেও তিনি অধিবেশনে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।এ দিন দেবীবদ্বারে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের অকাল মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য হাসনাত। 

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে চলা অধিবেশনে তিনি জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের দেবীবদ্বার অংশের প্রশস্ততা মাত্র ১৮ ফুট। অথচ এটি চট্টগ্রাম ও সিলেট সংযোগের একটি প্রধান মাধ্যম। 

অত্যন্ত সংকীর্ণ রাস্তার কারণে চলতি মাসের মাত্র ১৫ দিনে এই স্থানে অন্তত ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে না পারলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায় এড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদে আরও উল্লেখ করেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া না হলে এলাকার জনগণ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে। জনরোষের আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি সরাসরি সড়ক মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, জনগণের প্রাণের স্বার্থে তিনি অনেকটা ‘ভিক্ষা’ চাইছেন যেন দ্রুত রোলিং ও প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়। 

সংসদীয় রীতি মেনে পয়েন্ট অফ অর্ডারে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য সংসদের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ সময় সড়ক সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।তিনি সংসদকে অবহিত করেন যে, প্রতিদিন এই সড়কে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করলেও সক্ষমতার তুলনায় রাস্তাটি অনেক অপ্রশস্ত। ফলে ছোট-বড় দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

হাসনাত আব্দুল্লাহর এই জোরালো বক্তব্যের পর সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত সদস্যরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন। এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি কোনো প্রকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়াই দ্রুত উন্নয়ন কাজ শুরুর দাবি জানান। সংসদীয় এই আকুতির পর সড়ক বিভাগ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।