রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

‘গুপ্ত’ শব্দে উত্তাল সংসদ, পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও উত্তেজনা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

‘গুপ্ত’ শব্দে উত্তাল সংসদ, পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও উত্তেজনা

সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা ও বিরোধী দলীয় নেতার মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার বিকেলে অধিবেশন চলাকালে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা বক্তব্য শুরু করলে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। 

বিশেষ করে ‘গুপ্ত’ নামক একটি শব্দকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই বিতর্কে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাময়িক ছন্দপতন ঘটে।বক্তব্যের শুরুতেই আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা চট্টগ্রামের গতকালের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন যে, ছাত্রদলের আসলে কী অপরাধ ছিল। 

তিনি দাবি করেন, ছাত্রদল কেবল দেয়ালে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখেছিল এবং এই একটি শব্দের কারণেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তার মতে, এই হামলা কেবল ছাত্রদলের ওপর নয় বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর একটি বড় আঘাত। তিনি অভিযোগ করেন যে, যারা ছাত্রদলের কণ্ঠরোধ করতে চায়, তারা আসলে ফ্যাসিস্ট চিন্তাধারা লালন করে।

সরকার দলীয় এই সংসদ সদস্যের বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বিরোধী দলীয় নেতা দাঁড়িয়ে আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞার ভাষাকে ‘অসংসদীয়’ বলে আখ্যা দেন এবং তা এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন যে, একজন সংসদ সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে যে ধরনের হুমকির সুরে কথা বলছেন, তাতে বিরোধী পক্ষ গভীরভাবে মর্মাহত। এ সময় সংসদ কক্ষে দুই পক্ষের সদস্যদের মধ্যে হট্টগোল ও উচ্চবাচ্য শুরু হয়।

আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা তার বক্তব্যে আরও কঠোর হয়ে বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। তিনি বলেন, সরকারকে যারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে তারা অন্যায় দেখে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। তারা প্রতিটি অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিরোধী দলের একাংশ বর্তমান সরকারকে নাজেহাল করার জন্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে নানা চক্রান্ত চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, যারা একাত্তরের স্বাধীনতাকে আজও মেনে নিতে পারেনি, তারাই এখন দেশের উন্নয়ন ও সদ্যজাত এই সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সেখানে শিবিরের পক্ষ থেকে ছাত্রদলের ওপর যে আক্রমণ হয়েছে তার মূল কারণ ছিল একটি শব্দ। তিনি বারবার উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক দেশে কথা বলার এবং লেখার অধিকার সবার আছে। সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এই অধিকারের পক্ষে কথা বলবেন বলেও জানান। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা তার বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা অব্যাহত রাখলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

সংসদীয় এই অধিবেশনে আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাঠ পর্যায়ের ছাত্র রাজনীতির সংঘাত জাতীয় সংসদে এভাবে উঠে আসা সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষ করে শব্দ চয়ন ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির এই সংস্কৃতি সংসদীয় শিষ্টাচারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।