এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘শব্দের রাজনীতি’ আবারও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু। বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে এই ধরনের শব্দের ব্যবহার সমাজের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা বহন করছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যবহৃত ভাষার বিবর্তন ও এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তাঁর মতে শব্দের রাজনীতি সবসময়ই কোনো না কোনো সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
ডা. মাহমুদা আলম মিতু তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে অতীতে বিভিন্ন সময়ে কিছু বিশেষ শব্দ ব্যবহার করে মানুষকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত বা আলাদা করা হয়েছে।
এক পর্যায়ে সেই শব্দগুলোই যেন সহিংসতা চালিয়ে যাওয়ার একটি নীরব অনুমতিতে পরিণত হয়েছে। তিনি শঙ্কিত যে বর্তমানে এই ধরনের বিতর্কিত ভাষা শুধু রাজপথের বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন জাতীয় সংসদ, বড় বড় নেতৃত্বের বক্তব্য এবং এমনকি শিক্ষাঙ্গনের দেওয়ালেও জায়গা করে নিচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে শব্দের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত রক্তপাতে গিয়ে থামে যা দেখা কোনো সাধারণ মানুষের জন্যই সুখকর নয়।সম্প্রতি চট্টগ্রামে একটি গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন যে ‘গুপ্ত’ শব্দটির ব্যবহার এখন বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে জানান যে ‘রাজাকার’ শব্দটির প্রতিক্রিয়ায় যেভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন হয়েছে, ঠিক একইভাবে বর্তমানের শব্দের রাজনীতিতেও লাগাম দেওয়া জরুরি। ডা. মিতুর মতে আজ হোক বা কাল হোক এই ধরনের নেতিবাচক শব্দের কারণেই রাজনৈতিক পতন অনিবার্য হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে ‘গুপ্ত’ ইস্যুটি যেভাবে ক্যাম্পাসের দেয়াল ছাড়িয়ে সংসদ পর্যন্ত পৌঁছেছে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মোটেও শুভকর নয়।
এর পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির তুলনা করে এনসিপির এই নেত্রী অভিযোগ করেন যে সেই সময়ে গুম বা খুনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদেরও নির্দিষ্ট কিছু শব্দের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ আমলে ‘মৌলবাদী’, ‘জঙ্গি’, ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ বা ‘রাজাকার’ এর মতো শব্দগুলোকে রাজনৈতিক ও আদর্শিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ভিন্নমত পোষণ করলেই কাউকে না কাউকে কোনো একটি তকমা দিয়ে দেওয়া হতো যা সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পরিপন্থি। বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে আদর্শিক বিভাজনের যে ভাষা দেখা যাচ্ছে তা শিক্ষার পরিবেশকে কলুষিত করছে বলে তিনি মনে করেন।
একজন সচেতন নাগরিক ও মা হিসেবে ডা. মিতু রাজনৈতিক দলগুলোকে ভাষার ব্যবহারে আরও বেশি সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন বর্তমান সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অগ্রগতির মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে শব্দের এই লড়াই এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে আড়ালে ফেলে দিচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে মিথ্যা অপবাদে তিনি মোটেও বিচলিত নন। তবে রাজনীতির এই গতিপ্রকৃতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না হয় তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সহিংস ও বিভাজিত সমাজ উপহার পাবে বলে তিনি তাঁর বার্তায় সতর্ক করে দেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন