জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ধরনের টালবাহানা বা ধানাই-পানাই বরদাশত করা হবে না বলে হুশিয়ার করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার আগের ফ্যাসিবাদের পথেই সবকিছু বজায় রাখতে চায়, আর সে কারণেই তারা গণভোটের রায় মেনে নিতে ইতস্তত বোধ করছে।রোববার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক চিত্রপ্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে আয়োজিত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে তা বাংলার জমিনে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা সংসদে এবং রাজপথে লড়াই করব। যদি সংসদে দাবি আদায় না হয়, তবে রাজপথে আন্দোলন করে সেই রায় বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্লোগান ছিল ন্যায়বিচার। আমরা বৈষম্যহীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন চাই। অথচ বর্তমান সরকার আগের ফ্যাসিবাদের আলোকেই সবকিছু সাজাতে চায়। এ কারণেই তারা জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে।তিনি বলেন, আমাদেরকে বিভিন্ন সময় প্রলোভন দেখানো হয়েছে, কিন্তু আমরা সব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। জনগণের সঙ্গে আমরা বেইমানি করব না। গণভোটের রায় ব্যর্থ হলে জনগণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা হারাবে। আমরা সেই ধিক্কারের পাত্র হতে চাই না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণরুম’ সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই অপসংস্কৃতি আর কোনোভাবেই ফিরে আসবে না। কেউ যদি তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে তাদের প্রতিহত করা হবে। এখনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাজনৈতিক অপচর্চা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক জায়গায় অনিয়ম চলছে। আমরা চুপচাপ আছি মানে এই নয় যে আমরা ঘুমিয়ে গেছি। সমুদ্রে নিম্নচাপের পর যেমন ঘূর্ণিঝড় আসে, তেমনি অনিয়মের ফসলও বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত না করে যুবকদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। প্রদর্শনীর আয়োজন করায় তিনি ছাত্রশিবিরকে ধন্যবাদ জানান।উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী চিত্রপ্রদর্শনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মারক, আলোকচিত্র ও নিপীড়নের দলিল স্থান পেয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন