সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫, ০৫:০১ পিএম
একই সময়ে কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নেমেছে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্তত সাতটি রাজনৈতিক দল। যদিও তারা প্রকাশ্যে কোনো জোটের কথা বলছে না, তবে তাদের কর্মসূচি এবং দাবির মিল দেখে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তারা কি বিএনপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে? এই আন্দোলনকে অনেকে বিএনপির জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
আন্দোলনে নামা দলগুলোর দাবিগুলো অনেকটা একই রকম:
-
জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন।
-
আনুপাতিক বা পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচন।
-
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
-
আওয়ামী লীগের বিচার।
-
জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা।
এই দলগুলোর হঠাৎ আন্দোলন কেন, সেই প্রশ্ন উঠেছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দলগুলোর বেশ কিছু দাবির সঙ্গে বিএনপির অবস্থানের ভিন্নতা রয়েছে। যেমন, বিএনপি এখনও পিআর পদ্ধতির বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপির বিপরীতে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর একটি শক্তিকে কি দৃশ্যমান করার চেষ্টা হচ্ছে?
আন্দোলনে নামা দলগুলো যদিও জোট করার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে বিএনপি এই আন্দোলনের পেছনে 'অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা' দেখছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন যে, এই রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে রাজপথে সংঘাতের সূচনা হতে পারে। কারণ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিভিন্ন পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আন্দোলনে নামার উদ্যোগ এবারই প্রথম।
ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় এই আন্দোলন কী বার্তা দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার টেবিলে যখন কোনো সমাধান হচ্ছে না, তখন এই আন্দোলনের চাপ জামায়াত ও সমমনা দলগুলোকে দরকষাকষির টেবিলে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
এই পরিস্থিতি বিএনপির জন্যও একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ এই আন্দোলন দৃশ্যত সরকারের উদ্দেশ্যে হলেও এর মূল দ্বন্দ্ব কিংবা বিরোধ মূলত বিএনপির সঙ্গেই। এর ফলে রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন