ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূমিকম্প মহান আল্লাহ তাআলার মহাশক্তির অন্যতম নিদর্শন। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই ধরনের পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ এবং মহান আল্লাহর সাহায্য কামনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মেঘের গর্জন, ঝড়-তুফান কিংবা ভূমিকম্পের মতো বিপদে রাসুলুল্লাহ (সা.) তার উম্মতকে বিশেষ কিছু দোয়া ও আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে দেশে ঘনঘন ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে অনেক মুমিন মুসলমান এই সময় করণীয় আমলগুলো সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে ব্যক্তি একটি বিশেষ দোয়া সকালে এবং সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করবে সে জমিন ও আসমানের যেকোনো বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদে থাকবে। দোয়াটি হলো বিসমিল্লাহিল লাজি লা ইয়াদূররু মাআস মিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামিই ওয়াহুয়া সামিয়ুল আলিম।
এর অর্থ হলো মহান আল্লাহর নামে যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই অনিষ্ট করতে পারে না এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। এই দোয়াটি নিয়মিত আমলের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মহান আল্লাহর আশ্রয় লাভ করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
ভূমিকম্প চলাকালীন সময়ে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা এবং তাকবির বা আল্লাহু আকবার পাঠ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক আলেম ও ইসলামি স্কলার ভূমিকম্পের সময় মাটির দিকে তাকিয়ে আল্লাহু আকবার পাঠ করা এবং কালিমা পাঠ করার কথা উল্লেখ করেছেন যতক্ষণ কম্পন শেষ না হয়।
পবিত্র কুরআনের সুরা আরাফের ১৫৫ নম্বর আয়াতে বর্ণিত একটি দোয়ার মাধ্যমেও মুমিনরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করতে পারেন। দোয়াটির অর্থ হলো হে আল্লাহ আপনি আমাদের রক্ষক সুতরাং আমাদের ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের ওপর করুণা করুন। দুর্যোগের সময় আতঙ্কিত না হয়ে স্থির থাকা এবং তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য সন্ধান করাই ইসলামের মূল শিক্ষা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন