রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সাদকাতুল ফিতরের বিধি ও রোজার পূর্ণতা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৩, ২০২৬, ১০:০৭ এএম

সাদকাতুল ফিতরের বিধি ও রোজার পূর্ণতা

সাদকাতুল ফিতর আদায়

আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত পবিত্র রমজান মাসে রোজার পূর্ণতা অর্জনে সাদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ইবাদত। ইসলামি বিধান অনুযায়ী কেবল রোজা রাখা বা নামাজ পড়ার মাধ্যমেই রমজানের দায়িত্ব শেষ হয় না বরং সমাজের দুস্থ ও অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং ঈদের আনন্দে তাদের শামিল করাও মুমিনদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। 

সাদকাতুল ফিতর মূলত রোজার সময় ঘটে যাওয়া ছোটখাটো ভুলত্রুটি থেকে মুক্তির একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে যা একদিকে যেমন সম্পদের পবিত্রতা রক্ষা করে তেমনি ঈমানকেও সুদৃঢ় করে।

বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর সাদকাতুল ফিতরের হার সর্বনিম্ন ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারের আটা বা গমের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন হার এবং উন্নত মানের খেজুর বা পনিরের দামের ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ হার চূড়ান্ত করা হয়।

 সাধারণত নিসাব পরিমাণ অর্থাৎ সাড়ে ৫২ তোলা রুপা বা সমপরিমাণ সম্পদের মালিক হলে নিজের এবং পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের পক্ষ থেকে এই ফিতরা প্রদান করা আবশ্যক হয়। তবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হয়েও কেউ চাইলে সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে এটি সুন্নত আমল হিসেবে পালন করতে পারেন।ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে শরীয়তের সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা রয়েছে যা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। ফিতরার অর্থ বা খাদ্যদ্রব্য নিজের বাবা-মা কিংবা সন্তানদের প্রদান করা বৈধ নয় বরং এটি কেবল দরিদ্র আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং প্রকৃত অভাবী মানুষদের প্রাপ্য হক। 

এ ছাড়া মসজিদ বা কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ফিতরার অর্থ ব্যয় করার কোনো বিধান ইসলামে নেই। এটি মূলত অভাবীদের আর্থিক সহায়তার জন্য নির্ধারিত। রমজান মাস চলাকালীন যেকোনো সময় ফিতরা দেওয়া গেলেও ঈদের নামাজের দুই-এক দিন আগে বা ঈদের সকালে নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে আদায় করাকে সর্বোত্তম বলা হয়েছে।একটি সুশৃঙ্খল ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সাদকাতুল ফিতরের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। 

এটি সমাজের ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক ব্যবধান কমিয়ে আনার একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করে। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সামর্থ্যবানরা মূলত এটিই স্মরণ করেন যে তাদের অর্জিত সম্পদের ওপর সমাজের অবহেলিত মানুষের অধিকার রয়েছে। ফিতরা প্রদানের মাধ্যমে কাউকে ছোট করা হয় না বরং এটি দাতার বিনয় ও মহানুভবতার পরিচয় বহন করে। তাই আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর সবার জন্য আনন্দময় করতে নিয়ম মেনে সঠিক সময়ে এই ধর্মীয় কর্তব্য পালন করা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের দায়িত্ব।