মার্চ ২০, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
ঈদ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। রমজানের এক মাসের সংযম ও সাধনার পর ঈদুল ফিতর এবং কোরবানি ও আত্মত্যাগের স্মৃতি নিয়ে ঈদুল আজহা মুসলমানদের জীবনে এক অনন্য আনন্দবার্তা নিয়ে আসে। ঈদের এই খুশির সূচনা ঘটে এক মহিমান্বিত সামাজিক ও ধর্মীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে যা মূলত ঈদের জামাত।
ইসলামী ঐতিহ্যে ঈদের নামাজ খোলা মাঠে বা ঈদগাহে আদায়ের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে কারণ এতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হন। বাংলাদেশেও শতাব্দীজুড়ে বহু ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ গড়ে উঠেছে যা ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের অনন্য স্বাক্ষর বহন করে।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের পাশে অবস্থিত এই ঈদগাহটি আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
১৯৮৫ সালে একটি পুকুর ভরাট করে বড় মাঠ তৈরি করা হয় এবং পরে সরকার এটিকে জাতীয় ঈদগাহ হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে এখানে একসঙ্গে প্রায় এক লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। ঈদের দিন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মিলনমেলায় এটি জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়। ঢাকার প্রাচীনতম ঈদগাহগুলোর মধ্যে ধানমন্ডির মুঘল ঈদগাহ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
১৬৪০ সালে বাংলার সুবেদার শাহ সুজার আমলে তাঁর দেওয়ান মীর আবুল কাসেম এটি নির্মাণ করেন। স্থাপত্যের দিক থেকে এটি মুঘল শিল্পরীতির এক অসাধারণ নিদর্শন যা বর্তমানে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।উপমহাদেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত আয়োজনের জন্য বিখ্যাত কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ। ১৮২৮ সালে সুফি সৈয়দ আহমেদ তাঁর নিজস্ব তালুকে এই জামাতের সূচনা করেন। ঐতিহাসিক তথ্যমতে প্রথম জামাতে প্রায় সোয়া লাখ মানুষ অংশ নেওয়ায় এর নাম হয় শোলাকিয়া।

বর্তমানে এখানে প্রায় তিন লাখ মানুষের সমাগম ঘটে এবং জামাতের আগে শর্টগানের ফাঁকা গুলির আওয়াজ এখানকার একটি অনন্য ঐতিহ্য। অন্যদিকে দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রায় সাড়ে ১৪ একর জমির ওপর মুঘল স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত এই ঈদগাহে ৫২টি গম্বুজ ও দুটি সুউচ্চ মিনার রয়েছে। এখানে একসঙ্গে প্রায় সাত লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জমায়েত।
সিলেটের ঐতিহাসিক শাহি ঈদগাহও মুঘল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত এই ঈদগাহটি একটি টিলার ওপর অবস্থিত এবং এর দৃষ্টিনন্দন মেহরাব পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করে। এছাড়া রাজশাহীর পদ্মা তীরবর্তী শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ এবং চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ময়দান স্ব স্ব অঞ্চলের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আধুনিক স্থাপত্যের দিক থেকে বরিশালের গুঠিয়া মসজিদ ঈদগাহ কমপ্লেক্স অত্যন্ত চমকপ্রদ। বাংলাদেশের এই ঈদগাহগুলো কেবল নামাজের স্থান নয় বরং এগুলো আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন