জুন ১৬, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে এ মাসের মর্যাদা অপরিসীম। মোমিন মুসলমানের কাছে নফল ইবাদত ও তওবা-ইসতিগফারের জন্য এটি একটি বিশেষ সময়।আশুরার রোজা এই মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।রসুলুল্লাহ (সা.) মহররম মাসে বেশি বেশি নফল রোজা ও তওবা করার তাগিদ দিয়েছেন। রমজানের ফরজ রোজার পর নফল রোজার ক্ষেত্রে এ মাসটির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
আল্লাহ তায়ালা এই মাসে অনেকের তওবা কবুল করেন।তিরমিজি ও মুসনাদে আহমদের হাদিস অনুযায়ী, রসুল (সা.) বলেছেন, যদি রমজানের পর আর কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মহররমে রাখো। কারণ এটি আল্লাহর মাস।হজরত মুসা (আ.)-এর সুন্নত হিসেবে আশুরার রোজা পালনের হুকুম দেওয়া হয়েছে।
ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করতে দেখে রসুল (সা.) এর কারণ জানতে চেয়েছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন, এই দিনে আল্লাহ হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর উম্মতকে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার বাহিনীকে পানিতে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। সেই কৃতজ্ঞতায় হজরত মুসা (আ.) রোজা রাখতেন।আমরা হজরত মুসা (আ.)-এর কৃতজ্ঞতা আদায়ের ক্ষেত্রে বেশি হকদার।
মদিনায় হিজরতের পর থেকে রসুল (সা.) নিজে আশুরায় রোজা রাখতেন এবং অন্যদের রাখার নির্দেশ দিতেন। এছাড়াও হিজরি সনের প্রথম মাস হিসেবে এর ঐতিহাসিক ভিত্তি মজবুত। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতকালে রসুল (সা.)-এর হিজরতকে কেন্দ্র করে এই ক্যালেন্ডার প্রবর্তিত হয়।১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতবরণের ঘটনা এ মাসকে শোকাবহ ও স্মরণীয় করে রেখেছে।
পবিত্র কোরআনের সুরা তওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে চারটি সম্মানিত মাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নবী করিম (সা.) বিদায় হজের সময় বলেছিলেন, তিনটি মাস হলো জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং অন্যটি রজব। মাসজুড়ে ইবাদত ও তওবা-ইসতিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই একজন মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন