রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মহররম মাসের তাৎপর্য ও আশুরার ঐতিহাসিক গুরুত্ব

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১৯, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

মহররম মাসের তাৎপর্য ও আশুরার ঐতিহাসিক গুরুত্ব

ইসলাম ধর্মে চার সম্মানিত মাসের প্রথম মাস হলো মহররম যাকে আরবের অন্ধকার যুগেও বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখা হতো। হিজরি সনের প্রথম এই মাসটি শরিয়তের দৃষ্টিতে যেমন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তেমনি এই মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণও অনেক দীর্ঘ। ইসলামের বহু গুরুত্বপূর্ণ ও অলৌকিক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল এই পবিত্র মাসকে কেন্দ্র করেই। 

কেবল উম্মতে মুহাম্মদিই নয় বরং পূর্ববর্তী অনেক উম্মত ও নবীদের অবিস্মরণীয় ইতিহাসের এক জ্বলন্ত সাক্ষী হলো এই মহররম মাস।নামকরণের গভীর অর্থ থেকেই এই বরকতময় মাসের অনন্য ফজিলত ও মর্যাদা খুব সহজে প্রতীয়মান হয়।মহররম শব্দের মূল অর্থ হলো মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। যেহেতু অনেক ইতিহাস, ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এই মাস ঘিরে এবং প্রাচীনকালে এই সময়ে যুদ্ধবিগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল তাই একে মহররম বলা হয়। 

পবিত্র কোরআনের সুরা তওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে এই মাসের বিশেষ গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বর্ণিত হয়েছে যে আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাসের সংখ্যা হলো ১২টি যার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত প্রাচীন বিধান এবং এই সম্মানিত মাসগুলোর সম্মান বিনষ্ট করে নিজেদের প্রতি অন্যায় না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর বিস্তারিত বর্ণনা হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদিসেও উল্লেখ রয়েছে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন যে এক বছরে ১২টি মাস যার মধ্যে চার মাস বিশেষ তাৎপর্যের অধিকারী। এই চার মাসের মধ্যে তিন মাস ধারাবাহিকভাবে আসে যা হলো জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং চতুর্থ মাসটি হলো মুজর গোত্রের রজব মাস। সহিহ বোখারি ও সহিহ মুসলিম শরিফে এই হাদিসটি যথাক্রমে ৪৬৬২ এবং ১৬৭৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সংকলিত হয়েছে। মহররম মাস সম্মানিত হওয়ার অন্যতম প্রধান ও বিশেষ একটি কারণ হচ্ছে আশুরা বা মহররমের ১০ তারিখ।

এই ধরণীর ঊষালগ্ন থেকে আশুরার পবিত্র দিনে ইসলামের ইতিহাসে অনেক অলৌকিক ও হৃদয়বিদারক কাহিনি সংঘটিত হয়েছে। অনেকেই না বুঝে অথবা ভ্রান্ত প্ররোচনায় পড়ে আশুরার মূল ঐতিহ্য বলতে কেবল কারবালার ময়দানে হজরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদতের ঘটনাকেই মনে করে থাকেন। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হলো কারবালার দুঃখজনক ঘটনার বহু আগে থেকেই আশুরা অত্যন্ত রহস্যঘেরা ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন হিসেবে ইসলামে স্বীকৃত। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররমের কারবালার ময়দানের ঘটনাটি মুসলিম জাতির জন্য চরম বেদনাদায়ক হলেও আশুরার রোজার প্রচলন ইসলাম আবির্ভাবের বহু কাল আগে থেকেই চলে আসছে।