জুন ২৭, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
ইসলামি শরিয়তে বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা স্বামীর জন্য একটি আবশ্যকীয় বা ওয়াজিব বিধান। বিয়ের আকদ বা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সময় যে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়, পরবর্তীতে স্বামী ও স্ত্রী উভয় পক্ষ চাইলে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তা বৃদ্ধি করতে পারেন। পবিত্র কোরআন ও ইসলামের সামাজিক দর্শনে দেনমোহরকে স্ত্রীর একটি অন্যতম প্রধান আইনি ও ধর্মীয় অধিকার হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
দেনমোহর কোনোভাবেই নারীর মূল্য বা বিনিময় নয়, বরং এটি একটি পবিত্র উপহার।পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা নারীদের উপহার হিসেবে তাদের দেনমোহর সানন্দে পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিয়ের পর স্ত্রী যদি দেনমোহরের পরিমাণ বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট দাবি বা অনুরোধ করেন এবং স্বামী যদি সম্পূর্ণ স্বতস্ফূর্তভাবে তাতে রাজি হন, তবে ওই বর্ধিত অংশও পূর্বের দেনমোহরের সাথে আইনগতভাবে যুক্ত হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, আকদের সময় দেনমোহর যদি ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং পরে স্ত্রীর দাবিতে স্বামী সম্মত হয়ে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করেন, তবে মোহর হিসেবে ওই ৫ লাখ টাকাই আদায় করা ওয়াজিব হয়ে দাঁড়ায়।
এই অর্থ বা উপহারের সম্পূর্ণ মালিকানা একান্তই স্ত্রীর এবং এতে তার পরিবার বা কোনো অভিভাবকের অধিকার নেই। তবে স্ত্রী যদি নিজের ইচ্ছে ও খুশিমনে দেনমোহরের কোনো অংশ স্বামীকে ছাড় দিতে চান, তবে স্বামী তা সানন্দে গ্রহণ করতে পারবেন। আধুনিক বৈবাহিক জীবনে দেনমোহর সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা দূর করতে ইসলামের এই উদার ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতিনির্ধারণ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন