জুলাই ৩০, ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
প্রযুক্তির অভাবনীয় প্রসারের ফলে বর্তমান যুগে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ ও দ্রুতগতির হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের বহু কাজ এখন অনলাইনে সম্পন্ন হলেও ইসলামি শরিআহ ও ফিকহ শাস্ত্রের দৃষ্টিতে জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি তথা বিয়ে কি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শুদ্ধ হতে পারে—এই প্রশ্নটি প্রায়ই সামনে আসে। ইসলামি আইনবিদ ও শরিআহ বিশ্লেষকদের মতে, মেসেজ বা ফোনকলের মাধ্যমে সরাসরি `কবুল` বলে বিয়ে বৈধ বা শুদ্ধ হয় না।
শরিআহর বিধান অনুযায়ী, বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট মৌলিক শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এর অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ইজাব ও কবুল বা প্রস্তাব ও গ্রহণের মজলিসে পাত্র ও পাত্রী কিংবা তাদের অনুমোদিত উকিলদের সরাসরি উপস্থিত থাকতে হবে। ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও তা একই স্থানে বা এক বৈঠকে সংঘটিত না হওয়ার কারণে শরিআহসম্মত ইজাব-কবুল হিসেবে গণ্য হয় না।
তাছাড়া বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য সাক্ষীর উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি একটি স্তম্ভ। শরিআহ বিধান অনুযায়ী বিবাহ অনুষ্ঠানে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষীর একই স্থানে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। দূরবর্তী স্থানে বা ভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই শর্ত যথাযথভাবে পালিত হয় না। ইসলামি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থাবলিতেও এই মাসআলার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতি যতই হোক না কেন, মৌলিক ইবাদত ও শরিআই বিধিবিধানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্তগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়। তাই কেবল মুঠোফোনের কথোপকথন বা খুদে বার্তার মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করার কোনো সুযোগ ইসলামি শরিআহে নেই।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন