সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মালয়েশিয়ায় জুমার নামাজ বাদ দিলেই কঠোর সাজা, জরিমানা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ২০, ২০২৫, ০৯:৩৬ এএম

মালয়েশিয়ায় জুমার নামাজ বাদ দিলেই কঠোর সাজা, জরিমানা

ছবি- সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু প্রদেশে এখন থেকে বৈধ কারণ ছাড়া জুমার নামাজে অনুপস্থিত থাকলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। নতুন প্রণীত এই আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হলে মুসলিম পুরুষদের সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা ৩ হাজার রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা) পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। এই বিধানটি দেশটির পরবাসীদের মধ্যে বিশেষত ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

এর আগে তেরেঙ্গানুতে টানা তিন সপ্তাহ জুমার নামাজে অনুপস্থিত থাকার পর শাস্তির বিধান ছিল। তবে নতুন সংশোধনীতে এই কঠোরতা আরও বাড়ানো হয়েছে। সিনার হারিয়ান সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেরেঙ্গানুর দাওয়াহ ও শরিয়াহ বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ খলিল জানিয়েছেন, এই ধরনের শাস্তি কেবলমাত্র তখনই প্রয়োগ করা হবে যখন বারবার সতর্ক করার পরেও কোনো ব্যক্তি নামাজে অনুপস্থিত থাকবেন।

ড. খলিল আরও বলেন, "রাজ্যজুড়ে মসজিদগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যানার স্থাপন করা হচ্ছে, যাতে সবাই জুমার নামাজের ধর্মীয় গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হন। মুসলমানদের এই আইনকে ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা উচিত।

"

নতুন এই নিয়ম কার্যকর করতে রাজ্য সরকার কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নিয়েছে। জনগণের অভিযোগ গ্রহণ, নিয়মিত টহল এবং তেরেঙ্গানু ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট (জেএইচইএটি) ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই আইন প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন ড. খলিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বিধানটি ২০১৬ সালে পাশ হওয়া শরিয়াহ ক্রিমিনাল অপরাধ আইনের (তাকজির) সংশোধিত সংস্করণের অংশ। এই সংশোধনীতে ধারাবাহিকভাবে তিন সপ্তাহ নামাজ মিস করার পূর্বের বিধান পরিবর্তন করে এখন থেকে একবার নামাজ মিস করলেও শাস্তির আওতায় আসার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এই কঠোর আইন মালয়েশিয়ায় কর্মরত এবং বসবাসরত বাংলাদেশি পরবাসীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এই আইনকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই আইনটি শুধুমাত্র মুসলিম পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য এবং এর মূল লক্ষ্য ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা।