সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসলামে মানুষের অধিকার কতটা গুরুত্বপূর্ণ? হাদিস কী বলে?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৫, ২০২৫, ১০:১৮ এএম

ইসলামে মানুষের অধিকার কতটা গুরুত্বপূর্ণ? হাদিস কী বলে?

ছবি - সংগৃহীত

ইসলামি শরিয়তের আমলগুলোকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়—একটি হলো ‘হক্কুল্লাহ’ বা আল্লাহর প্রতি ব্যক্তির কর্তব্য, এবং অন্যটি হলো ‘হক্কুল ইবাদ’ বা মানুষের প্রতি মানুষের কর্তব্য। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজ, রোজা, হজের মতো ইবাদতগুলো আল্লাহর হকের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ইসলামে মানুষের অধিকার বা হক আদায়ের ওপর তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার নিজের হক ক্ষমা করলেও, বান্দার হক ততক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা করবেন না, যতক্ষণ না সেই বান্দা ক্ষমা করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন হাদিসে একজন সর্বোত্তম মুসলিমের পরিচয় তুলে ধরেছেন, যার প্রায় সবকিছুই মানুষের অধিকার ও মানবকল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যার স্বভাব-চরিত্র উত্তম, সেই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।’ (সহিহ বুখারি: ৬০৩৫)। উত্তম চরিত্র মানেই হলো মানুষের সঙ্গে সুন্দর ও ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করা।

উত্তম চরিত্রের পাশাপাশি রাসুল (সা.) একজন প্রকৃত মুসলমানের আরেকটি পরিচয় তুলে ধরেছেন, আর তা হলো তার হাত ও জিহ্বা থেকে অন্যের নিরাপত্তা। তিনি বলেন, ‘যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে, সে ব্যক্তিই প্রকৃত মুসলিম।’ (তিরমিজি: ২৬২৭)। অর্থাৎ, কাউকে শারীরিকভাবে বা কথায় কষ্ট না দেওয়া ঈমানের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

মানুষের সঙ্গে সদ্ব্যবহারের আরেকটি শ্রেষ্ঠ উপায় হলো ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং সমাজে সালামের প্রসার ঘটানো। এক সাহাবির প্রশ্নের জবাবে নবীজি (সা.) ইসলামে সর্বোত্তম কাজ হিসেবে এই দুটি কাজের কথা উল্লেখ করেছেন। (রিয়াদুস সালেহিন: ৮৪৯)।

ইসলামে মানুষের হক নষ্ট করাকে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক পাপগুলোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নবীজি (সা.) সাতটি ধ্বংসকারী কাজ থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন, যার মধ্যে শিরক ও জাদু ছাড়া বাকি পাঁচটিই—হত্যা, এতিমের মাল আত্মসাৎ, সুদ খাওয়া, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন এবং সতী নারীর প্রতি অপবাদ—সরাসরি মানুষের অধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত। (সহিহ মুসলিম: ১৬৩)।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পিতা-মাতার হক আদায়ের নির্দেশের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, নিকট ও দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী এবং অধীনস্থদের সঙ্গেও সদ্ব্যবহার করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। (সুরা নিসা: ৩৬)। একইভাবে, এতিমের প্রতি সদয় হওয়া এবং তাদের সম্পদ রক্ষা করাকে এতটাই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে, রাসুল (সা.) বলেছেন, “আমি ও এতিমের দেখাশোনাকারী জান্নাতে এভাবে (একসঙ্গে) থাকব।” (সহিহ বুখারি: ৬০০৫)।

সুতরাং, আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন, জুলুম না করা, মিথ্যা না বলা, গিবত না করা এবং হিংসা থেকে মুক্ত থাকাই একজন পরিপূর্ণ মুমিনের পরিচয়।