সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আল্লাহ বা রাসুল (সা.) সম্পর্কে বাজে চিন্তা এলে কী করবেন?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৫, ০৫:১৯ পিএম

আল্লাহ বা রাসুল (সা.) সম্পর্কে বাজে চিন্তা এলে কী করবেন?

ছবি - সংগৃহীত

অনেক সময় ইবাদত-বন্দেগি করার বা দ্বীনের পথে চলার চেষ্টা করার সময় কিছু মানুষের মনে আল্লাহ তায়ালা, রাসুলুল্লাহ (সা.) বা কোরআন-হাদিস সম্পর্কে বিভিন্ন অবাঞ্ছিত ও মন্দ চিন্তা আসে। এই ধরনের চিন্তা মনে উদয় হলে অনেকেই পেরেশান হয়ে পড়েন এবং নিজের ঈমান নিয়েই সন্দিহান হয়ে ওঠেন। আলেমদের মতে, এই চিন্তাগুলো শয়তানের পক্ষ থেকে আসা ‘ওয়াসওয়াসা’ বা কুমন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, “আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর শরণাপন্ন হও।” (সুরা আ‘রাফ: ২০০)। শয়তান এভাবেই মুমিনদের মনে সন্দেহ তৈরি করে তাদের পেরেশানিতে ফেলতে চায়।তবে আশার বিষয় হলো, সাহাবায়ে কেরামেরও এমনটি হতো। একদল সাহাবি একবার রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে বললেন,

“হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মনে কখনো এমন সব কথা আসে, যা মুখে উচ্চারণ করার চেয়ে আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়াও আমাদের কাছে অধিক পছন্দনীয়।” উত্তরে নবীজি (সা.) বললেন, “এটা তো খাঁটি ঈমানের আলামত।” (সহিহ মুসলিম)। অর্থাৎ, এই অবাঞ্ছিত চিন্তা আসাই প্রমাণ করে যে অন্তরে ঈমান আছে। কারণ, চোর কখনোই খালি ঘরে চুরি করতে যায় না।বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচটি কাজের পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রথমত, এই ধরনের বাজে চিন্তা মাথায় এলেও সেগুলোকে একেবারেই পাত্তা না দেওয়া বা এড়িয়ে চলা। দ্বিতীয়ত, অন্তরে ঈমান আছে বলেই শয়তান আক্রমণ করছে—এই ভেবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। তৃতীয়ত, এমন চিন্তা মাথায় এলেই তৎক্ষণাৎ ‘আমানতু বিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি’ (অর্থাৎ, আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের ওপর ঈমান আনলাম)

পাঠ করা। চতুর্থত, বাঁ দিকে প্রতীকীভাবে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করা, কারণ এজাতীয় কুমন্ত্রণা বাঁ দিক থেকেই আসে বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। এবং পঞ্চমত, এই ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি আশ্রয় প্রার্থনা করা (যেমন, আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম পড়া)।