রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সাড়ে ৩শ বছরের ঐতিহ্যবাহী গোষ্ঠ পূজা ও মেলায় পুণ্যার্থীদের ঢল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৫, ০৮:২৭ পিএম

সাড়ে ৩শ বছরের ঐতিহ্যবাহী গোষ্ঠ পূজা ও মেলায় পুণ্যার্থীদের ঢল

ছবি-দিনাজপুর টিভি

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনাজপুরে সাড়ে তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব— গোষ্ঠ পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার আরাধনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই মেলায় হাজার হাজার দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।প্রতি বছরের মতো এবারও বুধবার (২৯ অক্টোবর) দিনাজপুর শহরের আনন্দসাগর শিবমন্দির প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই প্রাচীন গোষ্ঠ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা ও মেলাকে ঘিরে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় পুলিশসহ নিরাপত্তা কর্মীরা নিয়োজিত ছিলেন।

দিনাজপুর রাজবাড়ীস্থ কালিয়াজিউ মন্দির থেকে সকালে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তি পালকিতে করে আনন্দসাগর এলাকায় শ্রী শ্রী গোষ্ঠধাম শিব মন্দিরের পাশে নিয়ে আসা হয়। সেখানে রাধা-কৃষ্ণকে আলাদাভাবে রেখে বাদ্য বাজনাসহ পূজা-অর্চনা করা হয় এবং ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এই পূজা উপলক্ষে দিনব্যাপী মেলা বসে।পূজা ও মেলা দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার সনাতন ধর্মপ্রাণ দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীরা সমবেত হন। ভক্তরা জানান, তারা এই বিশেষ দিনটিতে সকলের মঙ্গল কামনা করেছেন।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গোষ্ঠ অষ্টমীর দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কালিয়া নাগকে দমন করেছিলেন। তাছাড়া, আশ্বিন-কার্তিক মাসের অভাব-অনটনকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের মানুষ বলে থাকেন, "গোষ্ঠ গেলে কষ্ট শেষ হয়ে যায়"। কারণ, কার্তিক মাসে নতুন ধান ওঠে এবং ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব শুরু হয়। ভক্তরা সকালে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে এসে সারাদিন অবস্থান করেন, রান্না করেন এবং পূজা-অর্চনার মাধ্যমে সকলের মঙ্গল কামনা করেন।

পূজা উদযাপন পরিষদ, দিনাজপুরের সাধারণ সম্পাদক উত্তম রায় জানান, কালীপূজার পরের অষ্টমী তিথিকেই গোষ্ঠ অষ্টমী বলা হয়। এই দিনে রাধা-কৃষ্ণ প্রতিমাকে রাজবাড়ী থেকে এখানে নিয়ে আসা হয় এবং পূজা শেষে আবার রাজবাড়ীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

দিনাজপুর রাজদেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট রঞ্জিত রায় জানান, মহারাজার আমলের চিরাচরিত প্রথা ও ধর্মীয় নিয়ম অনুসারেই সাড়ে তিনশ বছর ধরে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে।মেলায় নাগরদোলা, খাদ্যপণ্য, খেলনাসহ হরেক রকমের পণ্যের দোকানের পাশাপাশি কাঁচা সবজি ও মাছের দোকানও বসে।