সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এশিয়ান কাপে ঋতুপর্ণাকে নিয়ে সতর্ক উত্তর কোরিয়ার কোচ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৫, ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

এশিয়ান কাপে ঋতুপর্ণাকে নিয়ে সতর্ক উত্তর কোরিয়ার কোচ

সতর্ক কোরিয়ান কোচ

নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সাবেক চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন এবং শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার মতো দলগুলোর সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের জন্য এবারের আসরটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বাংলাদেশের আক্রমণভাগের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে প্রতিপক্ষ শিবিরের। 

বিশেষ করে বাংলাদেশের দ্রুতগতির উইঙ্গার ঋতুপর্ণা চাকমাকে নিয়ে বাড়তি সতর্কতার কথা জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রধান কোচ রি সন হো। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে সপ্তম স্থানে থাকা উত্তর কোরিয়া এই আসরের অন্যতম ফেভারিট হলেও বাংলাদেশের ফুটবলারদের গতি ও দক্ষতা তাদের ভাবিয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার কোচ রি সন হো জানান যে চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াকু ফুটবল তাঁর আগের সব ধারণা বদলে দিয়েছে। তিনি মনে করেন বাংলাদেশ দল এখন অনেক বেশি সংগঠিত এবং তাদের আক্রমণভাগ যেকোনো দলের রক্ষণভাগের জন্য হুমকি হতে পারে। 

কোচ রি সন হো বিশেষভাবে ১৭ নম্বর জার্সিধারী ঋতুপর্ণা চাকমার নাম উল্লেখ করে বলেন যে এই খেলোয়াড় বাম প্রান্ত দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আক্রমণ করতে সক্ষম। চীনের বিপক্ষে ম্যাচে ঋতুপর্ণার দূরপাল্লার শট এবং বল কেড়ে নেওয়ার দক্ষতা দেখে তাঁকে রুখতে নিজের রক্ষণভাগকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন কোরিয়ান কোচ। ঋতুপর্ণা ছাড়াও আরও দুই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে তিনি বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এশিয়ার ফুটবলে উত্তর কোরিয়া এবং বাংলাদেশের শক্তির ব্যবধান অনেক হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের উন্নতি এখন দৃশ্যমান। রি সন হো স্বীকার করেছেন যে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল এক সময় দুর্বল থাকলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালে ঢাকার আবাহনী বনাম উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল ২৫ ক্লাবের ম্যাচের সময়ের তুলনায় বর্তমানের বাংলাদেশ দল অনেক বেশি শক্তিশালী। কোচ পিটার বাটলারের অধীনে বাংলাদেশ এখন রক্ষণ থেকে দ্রুত আক্রমণে ওঠার যে কৌশল অবলম্বন করছে তা আধুনিক ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দিক। 

উত্তর কোরিয়ার কোচ মনে করেন যদি তাঁর রক্ষণভাগ একটুও অমনোযোগী হয় তবে বাংলাদেশ গোল করার সুযোগ লুফে নিতে দেরি করবে না।১২ দলের এই টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের জন্য প্রতিটি পয়েন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি এবং তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দুটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ পাবে। 

উত্তর কোরিয়া ও চীনের মতো পরাশক্তিদের বিপক্ষে লড়াই করে পরের রাউন্ডে যাওয়া কঠিন হলেও বাংলাদেশের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। কোরিয়ান কোচের এই আগাম সতর্কতা প্রমাণ করে যে এশিয়ার ফুটবলে বাংলাদেশ এখন আর কেবল অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মনে ভীতি ছড়াতে সক্ষম। আগামীকালকের ম্যাচে ঋতুপর্ণা ও তাঁর দলের গতি কীভাবে কোরিয়ান প্রাচীর ভাঙতে পারে সেটিই এখন দেখার বিষয়।