রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আতলেতিকোর কাছে বিধ্বস্ত টটেনহ্যাম, গোলরক্ষকের লজ্জা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১১, ২০২৬, ০৯:৫২ এএম

আতলেতিকোর কাছে বিধ্বস্ত টটেনহ্যাম, গোলরক্ষকের লজ্জা

কিংসকির মাঠ ছাড়ার মুহূর্ত

ফুটবলে বিপর্যয়ের এক নতুন সংজ্ঞা লিখল টটেনহ্যাম হটস্পার। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ৫-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ইংলিশ ক্লাবটি। তবে এই হার কেবল স্কোরলাইনের ব্যবধান দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। স্পেনের মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে টটেনহ্যাম যা প্রদর্শন করেছে, তাকে ফুটবল না বলে আত্মহননের মহড়া বলাই শ্রেয়। 

গোলরক্ষক আন্তোনিন কিংসকির মারাত্মক ভুল এবং রক্ষণভাগের বিশৃঙ্খলায় শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ইগর তুদরের দল। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় এখন প্রায় নিশ্চিত, তবে যে ভঙ্গিতে তারা হারল, সেটি সমর্থকদের মনে দীর্ঘকাল ক্ষত হয়ে থাকবে।

ম্যাচের মাত্র ১৭ মিনিটের মাথায় গোলরক্ষক কিংসকিকে তুলে নিতে বাধ্য হন কোচ। তার আগে তার করা দুই ভুল থেকে সরাসরি গোল উপহার পায় আতলেতিকো মাদ্রিদ। ম্যাচের পাঁচ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর শর্ট গোল কিক নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে পিছলে পড়েন কিংসকি। 

সেখান থেকে বল পেয়ে অ্যাডেমোলা লুকম্যান পাস দেন হুলিয়ান আলভারেজকে, যিনি অনায়াসেই মার্কোস ইয়োরেন্তের জন্য গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন। দ্বিতীয় গোলটিতেও ছিল রক্ষণের চরম দুর্বলতা। মিকি ফন ডি ভেন পা পিছলে পড়ে গেলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আন্তোয়ান গ্রিজম্যান। তৃতীয় গোলটি ছিল কিংসকির ফুটবল জীবনের অন্যতম বড় লজ্জা। ফন ডি ভেনের পাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি নিজের গায়ে বল মেরে আলভারেজকে ফাঁকা জালে বল পাঠানোর সুযোগ করে দেন। ১৫ মিনিটের মধ্যে তিন গোল হজম করে কার্যত তখনই শেষ হয়ে যায় টটেনহ্যামের প্রতিরোধ।

কিংসকির বদলে মাঠে আসা গোলরক্ষক ভিকারিওকেও খুব বেশি স্বস্তি দেয়নি স্পার্সের রক্ষণভাগ। নিজের পোস্ট লক্ষ্য করে পাপে সার হেড করলে বলটি ভিকারিও রুখে দিলেও ফিরতি বলে গোল করেন রবিন লে নরম্যান্ড। বিরতির ঠিক আগে পেদ্রো পোরো টটেনহ্যামের হয়ে একটি গোল শোধ করলেও তা ম্যাচে ফেরার জন্য যথেষ্ট ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে ডমিনিক সোলাঙ্কে আরও একটি গোল করলেও আতলেতিকোর দাপটের সামনে সেগুলো কেবল সান্ত্বনা হয়েই থেকেছে। পুরো ম্যাচে টটেনহ্যামের রক্ষণভাগ ছিল ছন্নছাড়া, যার সুযোগ নিয়ে জুলিয়ান আলভারেজও নিজের গোলের খাতা খুলেছিলেন।

গ্যালারিতে বসে সাবেক কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো যখন এই খেলা দেখছিলেন, তখন টটেনহ্যামের সমর্থকদের মনে কেবল ২০১৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের সোনালী দিনের স্মৃতিই ভেসে উঠছিল। বর্তমান কোচ ইগর তুদর ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন, কিংসকিকে মানসিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতেই তিনি তাকে দ্রুত তুলে নিয়েছেন। তবে মাঠের খেলায় রক্ষণ ও গোলরক্ষকের মধ্যে যে সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে, তা কেবল এক খেলোয়াড় পরিবর্তনের মাধ্যমে মেরামত সম্ভব নয়। প্রিমিয়ার লিগে অবনমন অঞ্চলের লড়াইয়ের আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের এই পারফরম্যান্স টটেনহ্যামের সক্ষমতা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিল।