রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ জিতল টাইগাররা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ জিতল টাইগাররা

জয়ের পর টাইগারদের উল্লাস

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দাপুটে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেনেন্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে ৫৫ রানের বড় জয় পেয়েছে টাইগাররা। নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি এবং চোট কাটিয়ে ফেরা মোস্তাফিজুর রহমানের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে এই ঐতিহাসিক জয় ধরা দেয়। 

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বিশ্রামে থাকা মোস্তাফিজ একাদশে ফিরেই কিউই শিবিরে ধস নামান এবং একাই ৫ উইকেট শিকার করেন।এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক বাংলাদেশ। 

ইনিংসের শুরুটা অবশ্য মোটেও সুখকর ছিল না টাইগারদের জন্য। মাত্র ৩ ওভারের মধ্যে দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম সাজঘরে ফেরেন। দলীয় ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন দল ধুঁকছিল, ঠিক তখনই দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস। এই দুই ব্যাটার চতুর্থ উইকেটে ১৬০ রানের এক বিশাল পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। 

প্রায় দুই বছর পর ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির দেখা পান শান্ত। তিনি ১১৯ বলে ১০৫ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলেন, যাতে ৯টি চার ও ২টি ছক্কার মার ছিল। অন্যদিকে লিটন দাস ৭১ বলে নিজের ফিফটি পূরণ করে শেষ পর্যন্ত ৭৬ রান করে আউট হন। শান্ত ও লিটনের বিদায়ের পর শেষ ১০ ওভারে প্রত্যাশিত রান না আসলেও ২৬৫ রানের সম্মানজনক পুঁজি পায় বাংলাদেশ।জবাবে ২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে টম ল্যাথামের নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই কিউই ওপেনার হেনরি নিকোলসকে ফিরিয়ে উইকেট উৎসবের সূচনা করেন মোস্তাফিজুর রহমান। 

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার দ্রুতই ভেঙে পড়ে। অধিনায়ক টম ল্যাথামকে মেহেদী হাসান মিরাজ এবং বিপজ্জনক উইল ইয়াংকে তরুণ পেসার নাহিদ রানা সাজঘরে ফেরত পাঠান। বিশেষ করে নাহিদ রানার করা ১৪৮.৬ কিলোমিটার গতির ইয়র্কারটি জশ ক্লার্কসনের উইকেট উপড়ে ফেললে উল্লাসে ফেটে পড়ে সাগরিকার গ্যালারি।নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ডিন ফক্সক্রফট একা লড়াই করার চেষ্টা করেন। তিনি ৪২ ও ৪৩তম ওভারে আগ্রাসী ব্যাটিং করে হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। ফক্সক্রফটের ৭৫ রানের ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত কিউইদের পরাজয় এড়াতে পারেনি। 

বাংলাদেশের পক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান একাই ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। এছাড়া শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা এবং মেহেদী মিরাজও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। চট্টগ্রামে ম্যাচটি কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম এলাকায় উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়, যেখানে স্থানীয় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে ছিল সাগরিকার প্রবেশপথ। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত বোলিং ও ব্যাটিংয়ের সমন্বয়ে কিউইদের হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ।