রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জব্বারের বলীখেলায় টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন ‍‍`বাঘা‍‍` শরীফ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

জব্বারের বলীখেলায় টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন ‍‍`বাঘা‍‍` শরীফ

জব্বারের বলীখেলায় বাঘা শরীফ

চট্টগ্রামের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বার স্মৃতি বলীখেলায় টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মো. শরীফ, যিনি দেশজুড়ে ‘বাঘা’ শরীফ নামেই সুপরিচিত। শনিবার বিকেলে ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাকর ফাইনালে তিনি তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মো. রাশেদকে পরাজিত করেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বাঘা শরীফ বলীখেলার ইতিহাসে নিজের একক আধিপত্যের নতুন রেকর্ড গড়লেন।

এবারের আসরটি ঘিরে দুপুর থেকেই লালদীঘি ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বৈশাখের প্রচণ্ড দাবদাহ উপেক্ষা করে হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক মাটির কুস্তি এই বলীখেলা উপভোগ করতে সেখানে জমায়েত হন। 

মাঠের ভেতরে তো বটেই, বাইরের উৎসুক মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা এক উৎসবমুখর জনপদে পরিণত হয়।এ বছর প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মোট ১০৮ জন বলী অংশ নেন। কয়েক ধাপের প্রাথমিক লড়াই শেষে কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল পেরিয়ে শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে লড়াই করেন শরীফ ও রাশেদ। 

প্রথম সেমিফাইনালে রাশেদ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে জয় পেলেও অন্য সেমিফাইনালে সাবেক এক চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন বাঘা শরীফ।শিরোপার লড়াইটি ছিল শুরু থেকেই টান টান উত্তেজনায় ঠাসা। প্রায় ২৫ মিনিটের দীর্ঘ লড়াইয়ে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই একে অপরকে ধরাশায়ী করতে সর্বোচ্চ কৌশল ব্যবহার করেন। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ এমন এক পরিস্থিতিতে লড়াইয়ের শেষ মুহূর্তে বাঘা শরীফ নিজের বিশেষ চালের প্রয়োগ করেন। তিনি প্রতিপক্ষ রাশেদকে ভারসাম্যহীন করে কৌশলে মাটিতে ফেলে দিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। জয়ের খবর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত দর্শকরা গগনবিদারি উল্লাসে মেতে ওঠেন।

ঐতিহাসিক এই বলীখেলার ইতিহাস বেশ প্রাচীন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় বাঙালি তরুণদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ১৯০৯ সালে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এই প্রতিযোগিতার সূচনা করেছিলেন। কালের বিবর্তনে এই আয়োজন এখন চট্টগ্রামের প্রধানতম লোকজ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। টানা তৃতীয় শিরোপা জয় করে বাঘা শরীফ সেই ঐতিহ্যের পাতায় নিজের নাম উজ্জ্বলভাবে খোদাই করে নিলেন। যান্ত্রিকতার যুগেও এমন আয়োজনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে শিকড়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা কতটা গভীর।