রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে ক্রিকেটারসহ ৫ জনকে সাজা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৭, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

বিপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে ক্রিকেটারসহ ৫ জনকে সাজা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিং ও দুর্নীতি দমন বিধিমালা ভঙ্গের অভিযোগে ৫ জন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শাস্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে বোর্ড প্রধান তামিম ইকবাল খান ৫ জনকে সাজা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিসিবি সভাপতি জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের (BCBIU) তদন্তের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে বিপিএলের ১২তম আসরকে ঘিরে বেটিং, দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপ এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। 

তামিম ইকবাল বলেন, ফিক্সিংয়ের তদন্ত যখন শুরু হয় তখন তিনি বোর্ডে ছিলেন না। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকায় তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

শাস্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দেশি ক্রিকেটার অমিত মজুমদার রয়েছেন। বিসিবির তথ্য অনুযায়ী, অমিত মজুমদারের বিরুদ্ধে ম্যাচের ফল বা অগ্রগতির ওপর বাজি ধরা ও বেটিংয়ে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ক্রিকেটার ছাড়াও টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান ও রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে লাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা না করা এবং ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তালিকায় রয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ। তাঁর বিরুদ্ধেও তদন্তে বাধা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও তথ্য গোপন করার দায়ে শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগপত্র পাওয়ার পর থেকে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ বা জবাব দেওয়ার জন্য তাঁরা ১৪ দিন সময় পাবেন।

বিসিবি আরও জানিয়েছে, "BCB Excluded Person Policy" অনুযায়ী সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি পৃথক নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি করা হয়েছে। সামিনুর বিপিএলের ৯ম, ১০ম ও ১১তম আসরসহ একাধিক আসরে খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে দেশি ও আন্তর্জাতিক বেটিং চক্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। সামিনুর রহমান ইতোমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও শাস্তি মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিসিবি।

বর্তমানে বিপিএলের ১২তম আসর ঘিরে শুরু হওয়া এই তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বোর্ড প্রধানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ক্রিকেটের স্বচ্ছতা রক্ষায় বিসিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এই ৫ ব্যক্তির বাইরে আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত বিসিবি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।