জুন ৬, ২০২৬, ১০:০২ এএম
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের হাওরবেষ্টিত গ্রাম ঢালাগাঁও। এই জনপদ থেকেই উঠে এসেছেন বাংলাদেশের নারী হকির উদীয়মান তারকা নাদিরা তালুকদার ইমা। তিনি এখন আন্তর্জাতিক হকি অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিত মুখ হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৮টি গোল করেছেন তিনি।
বাবা মুসলিম তালুকদার ও মা মাজেদা তালুকদারের নয় সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ইমা। ছোটবেলা থেকে খেলাধুলার প্রতি তার অদম্য আগ্রহ ছিল। পরিবারের উৎসাহ ও কঠোর পরিশ্রমে তিনি জাতীয় ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ পান।
সেখান থেকেই শুরু হয় তার স্বপ্নপূরণের পথচলা। বিকেএসপির কঠোর অনুশীলনে তিনি নিজেকে একজন দক্ষ হকি খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে জায়গা করে নেন।২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২১ এএইচএফ কাপে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক ঘটে তার।
প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশ রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে। একই বছরের ডিসেম্বরে ওমানে অনুষ্ঠিত জুনিয়র নারী এশিয়া কাপে অংশ নেন তিনি। ২০২৫ সালে চীনে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে অংশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে হাওরকন্যা হিসেবে পরিচিতি পান। এরপর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় বাংলাদেশ নারী দল এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। জাপানে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় দল ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে, যা দেশের নারী হকির ইতিহাসে অন্যতম সাফল্য।আগামী ১০ জুন জাপান থেকে দেশে ফিরবেন ইমা।
স্থানীয়দের মতে, ইমার এই সাফল্য শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো সুনামগঞ্জ জেলার গর্ব। হাওরপাড়ের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এক অনন্য অর্জন। তার পথচলা দেখে গ্রামের অনেক পরিবার এখন মেয়েদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করছে। ইমার সামনে এখনও দীর্ঘ পথ বাকি এবং দেশবাসী তার কাছ থেকে আরও বড় সাফল্য প্রত্যাশা করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন