জুন ১৩, ২০২৬, ১১:০৭ এএম
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও থানায় নিয়ে হেনস্তা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদের মুখে খুলশী থানার এক উপপরিদর্শক তথা এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।মারধরের শিকার ক্রিকেটার নাঈম হাসান নিজেই সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাতে বিমানে তিনি চট্টগ্রামে পৌঁছান। এরপর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিজের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অটোরিকশাটি লালখান বাজার এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের কয়েকজন সদস্য গাড়ি থামিয়ে চালকের কাছ থেকে কাগজপত্র কেড়ে নেন। এরপর নাঈমকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয় এবং পরিচয়পত্র দেখানোর পরও এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে তাকে কোমরে আঘাত করেন।
ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করলেও পুলিশ সদস্যরা মারধর থামায়নি এবং একপর্যায়ে অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে তাকে খুলশী থানায় নিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষেও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে দাবি করেন নাঈম। থানায় এসে নিজের ফোন ফেরত পাওয়ার পর তিনি ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবালকে বিষয়টি জানান। ক্রিকেট বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে মধ্যরাতে ক্রিকেটারকে মারধরের খবর পেয়ে থানায় ছুটে আসেন তার আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা। শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় মারধর ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশের সোর্স সোহেলকে সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করা হয়েছে।
নগর পুলিশের উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম জানান, একটি তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশাটিতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল তবে পুলিশের অভিযানে স্পষ্ট ভুলত্রুটি ছিল। নিয়ম বহির্ভূত ও অপেশাদার আচরণের কারণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার পর দুঃখ প্রকাশ করে ক্রিকেটারকে সসম্মানে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হলেও জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা ছাড়েননি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন