জুন ২৬, ২০২৬, ১১:০০ পিএম
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে কেবল শারীরিক শক্তি বা মাঠের নৈপুণ্যই নয়, বরং ক্রীড়া বিজ্ঞান ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে এক অভূতপূর্ব বৈজ্ঞানিক বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে জাপান। চলমান বিশ্বকাপে দলটির মূল কোচের সাথে অতিরিক্ত পঁচিশ জন বিশেষ টিম অ্যানালিস্ট কাজ করছেন, যারা মাঠের বাইরে বসে নিখুঁত ডেটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেন। অবাক করার মতো তথ্য হলো, এই পঁচিশ জন অ্যানালিস্টের প্রত্যেকেই জাপানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র।
জাপানের এই বৈজ্ঞানিক ফুটবল ছক পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।এই বিশ্লেষক দলের মধ্যে পনেরো জন টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় এবং দশ জন সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্স ও অ্যানালিটিক্সের শিক্ষার্থী। আধুনিক ফুটবলে প্রতিপক্ষের শক্তি, দুর্বলতা, মাঠের কন্ডিশন ও নিখুঁত সময়ভিত্তিক কৌশল নির্ধারণে এই তরুণদের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানকে সরাসরি কাজে লাগাচ্ছে জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তারা অন্তত চল্লিশটি সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ দলের শক্তির দিক এবং টাইব্রেকারের সময় গোল করার হারের মতো অসংখ্য জটিল পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ গাইডলাইন তৈরি করে রেখেছে। এমনকি জাপানের তারকা ফুটবলার কারু মিতোমা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ড্রিবলিংয়ের ওপর উচ্চতর গবেষণা বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন, যা তাদের ফুটবল ভাবনার গভীরতা নির্দেশ করে।
শিক্ষার সাথে ক্রীড়া বিজ্ঞানকে যুক্ত করার এই দূরদর্শী পরিকল্পনার সুফল জাপান হাতেনাতে পাচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুই হাজার উনিশ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত ইউরোপের কোনো পরাশক্তি দল আন্তর্জাতিক ফুটবলে জাপানকে পরাজিত করতে পারেনি। এমনকি লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষেও তারা জয়ের রেকর্ড গড়েছে। এই তরুণ অ্যানালিস্টরা স্টেডিয়ামের উঁচুতে বসে পুরো মাঠের ত্রি-শত ষাট ডিগ্রি কোণ থেকে খেলা পর্যবেক্ষণ করেন এবং বিশেষ জিপিএস ডিভাইসের মাধ্যমে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মূল কোচের কাছে মাঠের ভেতরের সূক্ষ্মতম পরিবর্তনের তথ্য পৌঁছে দেন। এই রিয়েল-টাইম অ্যানালিসিসের কারণেই জাপান ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সবসময় অত্যন্ত ভয়ংকর ও কৌশলী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বা বিকেএসপিতে স্পোর্টস সায়েন্সের শিক্ষার্থী থাকলেও জাতীয় দল বা ফেডারেশন পর্যায়ে তাদের এই মেধা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান ব্যবহারের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি। অন্যদিকে, জাপান সেই এক হাজার নয়শত চব্বিশ সাল থেকেই ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বকাপ জয়ের দীর্ঘমেয়াদী ভিশন নিয়ে কাজ করছে। আধুনিক ডেটা ও ক্রীড়া বিজ্ঞানের এই যুগান্তকারী সংমিশ্রণই এশিয়ার দলটিকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ইঞ্জিনে পরিণত করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন