জুলাই ১০, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে ৩৯ বছরে পা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। বয়সের কোটা প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি এখনও উদীয়মান তরুণদের মতোই সমান পারদর্শী। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তিনি অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছেন এবং গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকার পাশাপাশি একের পর এক নতুন রেকর্ড ভেঙে চলেছেন।
মেসির এই অতিমানবীয় ফিটনেসের পেছনে রয়েছে তার মেডিকেল টিমের কঠোর ও নিখুঁত পরিকল্পনা।প্রতিটি ম্যাচ এবং ভারী অনুশীলনের পর মেসি বরফ-শীতল পানিতে স্নান করেন, যা তার পেশির ক্লান্তি ও প্রদাহ দ্রুত কমিয়ে শরীরকে আবার সতেজ করে তোলে। পায়ের রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে এবং জমে থাকা ল্যাকটিক এসিড দূর করতে তিনি নিয়মিত বিশেষ বায়ুচাপযুক্ত নিউমেটিক কম্প্রেশন বুট ব্যবহার করেন।
এছাড়া পর্যাপ্ত গভীর ঘুম নিশ্চিত করার পাশাপাশি ম্যাচ ও অনুশীলনের আগে-পরে শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে তিনি তরল খাবার পানের কঠোর নিয়ম মেনে চলেন।খাবারের ক্ষেত্রেও তিনি কঠোরভাবে পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েট অনুসরণ করেন, তবে মানসিক ক্লান্তি এড়াতে পুষ্টিবিদদের পরামর্শে মাঝে মাঝে সামান্য ছাড়ও দেন। মাঠের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা দলের ভেতর একটি অলিখিত চুক্তি কাজ করে, যেখানে সতীর্থরা অতিরিক্ত দৌড়ে মেসির জন্য জায়গা তৈরি করেন।
এর ফলে মাঠের পরিস্থিতি নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে সঠিক সময়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার সুযোগ পান তিনি এবং বাড়তি শারীরিক চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারেন।উন্নত চিকিৎসা, কঠোর শৃঙ্খলা এবং দলের সতীর্থদের দারুণ সহযোগিতার এই মেলবন্ধনেই ২০২৬ বিশ্বকাপে এসেও আগের টুর্নামেন্টগুলোর মতোই দুর্দান্ত গতি ও নৈপুণ্য ধরে রেখেছেন তিনি। আধুনিক ফুটবলে বয়স যে কেবল একটি সংখ্যা মাত্র, তা মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই বারবার প্রমাণ করে চলেছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত তার এই ধরে রাখা ফর্ম ও ফিটনেস দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন