সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
এশিয়া কাপের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার আগেই এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক হারিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। মাঠের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক অবনমন ও দলগত বিপর্যয়ের পর এবার সংকটের কারণ অনুসন্ধানের বদলে কোচিং স্টাফ ও ক্রিকেট বোর্ডের নারী উইংয়ের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ।
পাকিস্তানের কাছে হেরে এবার এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ পদকও হাতছাড়া হয়েছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। দলীয় ব্যর্থতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও গভীর ছন্দহীনতা স্পষ্ট। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি, দিলারা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারিদের মতো নিয়মিত ব্যাটাররা রান খরায় ভুগছেন। যেকোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে পুরো দলের একশত রান তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে কার্যকর সমাধান খোঁজার বদলে উল্টো তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক সংঘাত।
জাপানে এশিয়ান গেমস শেষ হতেই দলের সিনিয়র কোচ সারোয়ার ইমরান প্রকাশ্যে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, টুর্নামেন্টের মাঝপথে কোচ ও অধিনায়ককে সরিয়ে দেওয়ার বা শায়েস্তা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে দল মাঠে ভালো খেলবে কীভাবে। কোচের এমন বক্তব্যে ক্রিকেট অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং ধারণা তৈরি হয় যে হয়তো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা নারী উইংয়ের পক্ষ থেকে কোনো অদৃশ্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বোর্ড পরিচালক ও নারী ক্রিকেট উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। তিনি পরিষ্কার জানান, ক্রিকেট বোর্ড বা তার উইংয়ের পক্ষ থেকে টুর্নামেন্টের আগে বা চলাকালীন কোচ কিংবা অধিনায়ককে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো আগাম মন্তব্য বা ঘোষণা কখনোই দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কোচের কাছে পুনরায় জানতে চাওয়া হলে সারোয়ার ইমরান নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন। তিনি স্বীকার করেন যে বোর্ড কিংবা নারী উইংয়ের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মুখ থেকে তিনি এমন কথা শোনেননি। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট দেখে তিনি ওই মন্তব্যটি করেছিলেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে এশিয়ান গেমসের পরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক মাধ্যমের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোচের এমন আচরণে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান। রফিকুল ইসলাম বাবু জানান, দলের বিপক্ষে আনা এই অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসে বাজে ফলের পরও তারা টুর্নামেন্ট চলাকালে কাউকে অপসারণের কথা বলেননি, বরং আসর শেষে প্রধান কোচ ও অধিনায়কসহ সবাইকে নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা ছিল। বোর্ডের নিয়মিত চুক্তিতে থেকে সামাজিক মাধ্যমের গুজবের ভিত্তিতে এভাবে বোর্ডের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা একজন দায়িত্বশীল সিনিয়র কোচের জন্য কতটা সমীচীন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন