মার্চ ২২, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটির নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সময়ে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। লঘুচাপের এই প্রভাবে বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার আভাস রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের বাকি অংশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই সময়েও সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। মূলত সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টির বিস্তৃতি দেশের অধিকাংশ বিভাগেই লক্ষ্য করা যাবে।
পরবর্তী দিনগুলোর পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে বুধবার সন্ধ্যা থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সাথে বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য স্থানে আকাশ মেঘলা থাকলেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম। বৃহস্পতিবারও রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে এই সময়ে তাপমাত্রার বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বসন্তের এই সময়ে লঘুচাপের প্রভাবে আকস্মিক দমকা হাওয়া ও বজ্রপাত বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে কৃষি প্রধান অঞ্চলগুলোতে হঠাৎ বৃষ্টি ফসলের জন্য আশির্বাদ হলেও বজ্রপাত থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নৌযানগুলোকে আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের উপকূলীয় এবং নদীপ্রধান জেলাগুলোতে দমকা হাওয়ার তীব্রতা বেশি হতে পারে বিধায় নদীবন্দরগুলোর জন্য সতর্কতা সংকেত জারির বিষয়টি আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে না থাকা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন