সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
বান্দরবানের পাহাড়ি ঢাল ও খাদে আম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
রাজধানী ঢাকা থেকে সোয়া তিনশত কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই পাহাড়ি জেলায় জুম চাষের বিকল্প হিসেবে বাণিজ্যিক আম বাগান গড়ে তুলেছেন চাষিরা।
গত প্রায় তেইশ বছর আগে নেওয়া পরীক্ষামূলক উদ্যোগগুলো এখন সফল রূপ পেয়েছে। বর্তমানে জেলার সাতটি উপজেলার প্রায় দশ হাজার হেক্টর জমিতে গড়ে উঠেছে এসব বাণিজ্যিক বাগান। সমতলের মতো এখানকার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য উপযোগী প্রমাণিত হয়েছে। বসন্তে গাছে মুকুল আসার পর প্রায় চার মাসের মাথায় মিষ্টি ও আঁশবিহীন ফলন পাওয়া যায়। বাগানগুলোতে রাঙ্গুয়াই, আম্রপালি, রূপালী, গোপালভোগ, গৌড়মতি, সূর্যডিম, বারি চার এবং ব্যানানাসহ দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির আম ফলছে।
এর মধ্যে মোট উৎপাদনের প্রায় পঁচাত্তর শতাংশই রাঙ্গুয়াই জাতের। বিশ ভাগ আম্রপালি এবং বাকি পাঁচ ভাগে অন্যান্য জাতের আম উৎপাদিত হয়। জুন মাসের শুরু থেকেই পাহাড়ি বাগানগুলো থেকে পুরোদমে আম আহরণ শুরু হয়। বম, মারমা ও ম্রোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা বাগান মালিক ও বাগান শ্রমিক হিসেবে এই চাষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বাঙালি পাইকার ও উদ্যোক্তারা বাগান হিসেবে আম কিনে নেওয়ার পর বাগান শ্রমিকরা পরিপক্ব আম সংগ্রহ করে বাজারে পাঠান। গাছের উঁচুতে থাকা আম পাড়তে বাঁশের মাথায় খাঁচা লাগানো বিশেষ ধরনের লগি ব্যবহার করা হয়। একটি গাছ থেকে প্রতি মৌসুমে গড়ে প্রায় পঞ্চাশ কেজি পর্যন্ত আম পাওয়া যায়। পাহাড়ি খাড়া পথ দিয়ে বাগান থেকে খাঁচায় করে আম পরিবহন করা অত্যন্ত পরিশ্রমের কাজ।
ওজনদার ঝুড়ি বহন করে নিচে নামানোর জন্য সমতলের শ্রমিকরা রিলে রেসের মতো বাহক বদল করলেও স্থানীয় পাহাড়ি শ্রমিকরা কোনো বাহক বদল ছাড়াই দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দেন। পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এসব সতেজ ফল দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ ও সরাসরি বিপণনের ফলে বান্দরবানে বাৎসরিক আম বাণিজ্য এখন সাড়ে পাঁচশত কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিল্লার পাইকাররা স্থানীয় বাগান থেকে সিংহভাগ ফল সংগ্রহ করেন।
এখান থেকে প্রতি বছর প্রায় এক থেকে সোয়া লাখ মেট্রিক টন আম দেশজুড়ে বিপণন হয় এবং একটি অংশ বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন