রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে শূন্য হাতে ফিরছেন মুন্সিগঞ্জের আলু চাষিরা।

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৩, ২০২৫, ১০:০০ পিএম

লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে শূন্য হাতে ফিরছেন মুন্সিগঞ্জের আলু চাষিরা।

মুন্সিগঞ্জের আলু চাষিরা বর্তমানে চরম হতাশা ও লোকসানের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কারণ বছরজুড়েই আলুর দফায় দফায় দরপতন এবং ক্রেতার তীব্র সংকট ছিল। মৌসুমের শেষ দিকে এসে সামান্য লাভের মুখ দেখার আশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিপুল লোকসান মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা, যার ফলে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের।

মুন্সিগঞ্জের মোট ৬১টি হিমাগারে ৩ লাখ ৪ হাজার ১৭০ টন খাবার আলু মজুদ করা হয়েছিল, যার অর্ধেকেরও বেশি এখনো রয়ে গেছে এবং বিপুল পরিমাণ আলুতে পচন ধরেছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা বলছেন|

 তাদের প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ ও সংরক্ষণ বাবদ মোট খরচ হয়েছে ২৬ থেকে ২৮ টাকা, অথচ বর্তমানে হিমাগার পর্যায়ে আলুর বেচাকেনা চলছে মাত্র ৯ টাকা কেজি দরে|

 এই বিপুল লোকসানের কারণে চাষিরা তাদের আলু হিমাগার থেকে তুলছেন না। আলু চাষিরা অভিযোগ করেন, বর্তমান বাজারদর একেবারেই সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যার ফলে তারা লেবার খরচ দিয়ে হিমাগার থেকে আলু তুলে বিক্রি করেও কোনো টাকা পাচ্ছেন না। সরকার লোকসান ঠেকাতে হিমাগার পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ২২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল|

 কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দাবি, প্রতিটি মোকামে একটি কার্যকর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ২২ টাকার রেটটি নির্ধারণ করে দিলে তা কার্যকর হতে পারত। চাষিরা এই লোকসান কাটিয়ে উঠতে সরকারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে আলু ক্রয়ের দাবিও জানিয়েছেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর হিমাগারে মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ আলুর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো স্পষ্ট বার্তা দিতে না পারলেও মনে করছে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করে দিলে জিনিসটা কার্যকরী হতে পারত এবং দেশের আলুর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তৈরি করতে রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের রপ্তানিমুখী উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আলু চাষিদের লোকসানের অঙ্ক কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।