ডিসেম্বর ২, ২০২৫, ০৬:০৬ পিএম
পার্বত্য অঞ্চলে ‘বারি লাউ-৪’ চাষে সাফল্য অর্জন করেছে কাপ্তাই রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের এক একর জায়গা জুড়ে এর পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করে তারা। বীজ বপন করার ৭০ দিনের মধ্যেই প্রতিটি গাছে ভালো ফলন ধরেছে।
গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান জানান, এই জাতের লাউ চাষের জন্য পার্বত্য অঞ্চল অত্যন্ত উপযোগী। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
তাপ সহনশীল: জাতটি তাপ সহিষ্ণু হওয়ায় গ্রীষ্মকালে চাষ করে কৃষক লাভবান হতে পারে।ফলের বিবরণ: গাঢ় সবুজ রঙের ফলের গায়ে সাদাটে দাগ থাকে।ফলন: গাছ প্রতি ১০-১২ টি ফল পাওয়া যায় এবং ফলের গড় ওজন ২.৫ কেজি।
হেক্টর প্রতি ফলন: হেক্টর প্রতি ফলন হয় ৮০ থেকে ৮৫ টন।ফসল সংগ্রহ: চারা রোপণের ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়।ড. জিয়াউর রহমান জানান, বাংলাদেশের সব এলাকায় এ জাতটি চাষ করা যায়। গ্রীষ্মকালীন চাষের জন্য ফাল্গুনের শেষে আগাম ফসল হিসেবে এ লাউ চাষ করা যায়।
রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র বারি লাউ-৪ জাতের সবজি পাহাড়ি অঞ্চলে উৎপাদনের উপযোগী হওয়ায় এর প্রজনন বীজ উৎপাদন করে পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলের কৃষকদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে।রাইখালী ইউনিয়নের কৃষক পাইদো অং মারমা গবেষণা কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার সংগ্রহ করে নিজস্ব এক বিঘা জমিতে লাউয়ের চাষ শুরু করেছেন এবং ভালো ফলনের আশা করছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গবেষণা কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ২১টি সবজি এবং ফলের জাত উদ্ভাবন করে পাহাড়ের কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন