রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা, বাম্পার ফলনের আশা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ০৭:১৩ পিএম

আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা, বাম্পার ফলনের আশা

শেরপুর জেলায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষ ও পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ভোরের আলো ফুটতেই ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে কৃষাণ-কৃষাণীরা নেমে পড়ছেন ফসলের মাঠে। এবছর অনুকূল আবহাওয়া এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে শীতকালীন শাক-সবজির বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছে জেলা কৃষি বিভাগ।

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব বিষমুক্ত সবজি এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রির প্রস্তুতি চলছে।

শেরপুর সদর ছাড়াও নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, মুলা, লাউ, টমেটো এবং বিভিন্ন ধরণের শাকের সমারোহ। সদর উপজেলার চরখার চর গ্রামের কৃষক সুমন মিয়া জানান, তিনি এবছর এক বিঘা জমিতে আগাম চিচিঙ্গা চাষ করেছেন।

এতে তার খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা, অথচ ইতোমধ্যেই তিনি ৪০ হাজার টাকার চিচিঙ্গা বিক্রি করেছেন। খরচ বাদে তার ৫০ হাজার টাকার বেশি মুনাফা থাকবে বলে তিনি আশা করছেন। একই গ্রামের কৃষক শাহীন মিয়া পটল চাষ করে মাত্র ১৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৭০ হাজার টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন।শেরপুর জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবছর কৃষকেরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার এবং কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে ক্ষতিকারক পোকা দমনে ‘ফেরোমন ফাঁদ’ ব্যবহার করছেন।

এর ফলে কম খরচে পরিবেশবান্ধব ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ আনোয়ার জানান, শেরপুরের মাটি সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের নিয়মিত সুষম সার ব্যবহার এবং রোগবালাই দমনে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, চলতি বছর জেলায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে জেলার অর্থনীতিতে বড় ধরণের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।