ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৫:২৬ পিএম
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বাংলাদেশে চারা উৎপাদনের সনাতন পদ্ধতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে। মাটির বিকল্প হিসেবে নারকেলের ছোবড়ার গুঁড়ো বা ‘কোকোপিট’ পদ্ধতিতে উন্নত জাতের সবজির চারা উৎপাদন করে সাফল্যের নতুন পথ দেখাচ্ছেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সমেসপুর গ্রামের প্রবাস ফেরত তরুণ উদ্যোক্তা হোসাইন রাব্বি।
তার এই উদ্যোগ একদিকে যেমন চারা উৎপাদন ঝুঁকি কমিয়েছে, অন্যদিকে কৃষকদের জন্য এনেছে অধিক মুনাফার নিশ্চয়তা।
কোকোপিট পদ্ধতি কী ও কেন জনপ্রিয়? কোকোপিট মূলত নারকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি একটি মাধ্যম। এটি হালকা এবং এর পানি ধারণক্ষমতা মাটির তুলনায় অনেক বেশি। এতে প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম থাকায় গাছের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়ক।
রোগমুক্ত চারা: মাটিতে ছত্রাক বা পোকামাকড়ের যে ভয় থাকে, কোকোপিটে তা নেই বললেই চলে।শতভাগ চারা প্রাপ্তি: সনাতন পদ্ধতিতে অনেক চারা মারা গেলেও কোকোপিট পদ্ধতিতে প্রায় ১০০ শতাংশ চারা বেঁচে থাকে।পরিবহনে সহজ: এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের ট্রে-তে চারা তৈরি হয় বলে শিকড়ের কোনো ক্ষতি ছাড়াই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে নেওয়া যায়।উদ্যোক্তা হোসাইন রাব্বি জানান, ইউটিউব থেকে ধারণা নিয়ে এবং স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি এই আধুনিক পদ্ধতি শুরু করেন। বর্তমানে তার উৎপাদিত ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ও বেগুনের চারা নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষকরা সমেসপুর গ্রামে ভিড় করছেন।
বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার বলেন, “কোকোপিট পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারার মান অনেক উন্নত এবং শিকড় মজবুত হয়। সমেসপুর গ্রামে দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে চারা উৎপাদন হলেও এই আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন কৃষকদের ভাগ্য বদলে দেবে।” কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই পদ্ধতি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন