ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে প্রথমবারের মতো দেশীয় প্রযুক্তি ও নিজস্ব বীজে প্রাকৃতিক শীতল পরিবেশে বাটন মাশরুম চাষে অভাবনীয় সফলতা অর্জিত হয়েছে। প্রোটিনা রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও বাহারী এগ্রোটেকের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে এই প্রথম বিদেশ থেকে বীজ বা কম্পোস্ট আমদানি না করেই সফলভাবে বাটন মাশরুম উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ নিজপাড়া গ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই সাফল্যের তথ্য জনসমক্ষে আনা হয়।সংবাদ সম্মেলনে প্রোটিনা রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাসুদা ইসলাম জানান, বাটন মাশরুম চাষে সাধারণত বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হলেও তারা দীর্ঘ প্রচেষ্টায় নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে বীজ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন।
পাশাপাশি দেশীয় উপাদানে কম্পোস্ট সার তৈরি করে প্রাকৃতিক পরিবেশেই বাটন মাশরুম উৎপাদন করে সফলতা পেয়েছেন। এই উদ্ভাবনী কাজে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে মাশরুম চাষে স্থানীয় প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দেশের কৃষিখাতে নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মাশরুমের পুষ্টিমান সম্পর্কে আলোকপাত করেন টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক। তিনি জানান, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা বাটন মাশরুমে ২ দশমিক ৭৫ গ্রাম প্রোটিন, ২ দশমিক ৫ গ্রাম শর্করা ও শূন্য দশমিক ৫ গ্রাম চর্বিসহ গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ও মিনারেল রয়েছে। এটি ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালনের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর।
বাহারী এগ্রোটেকের পার্টনার প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে প্রতি বছর ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শত কোটি টাকার বেশি মূল্যের বাটন মাশরুম ও বীজ আমদানি করা হয়। দেশীয় এই প্রযুক্তি ও বীজ ব্যবহার করে চাষাবাদ সম্প্রসারণ করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব হবে। সংবাদ সম্মেলনে বাহারী এগ্রোটেকের পার্টনার প্রকৌশলী মো. ফাহিম রহমান, গবেষক মো. সালাউদ্দিনসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন