জুলাই ১২, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
একসময় বিদেশি একটি আম কিনতে গিয়ে উচ্চমূল্যের কারণে ফিরে এসেছিলেন দিনাজপুরের বিরল উপজেলার কৃষক আনছার আলী। কিন্তু সেই ঘটনাটিই বদলে দেয় তাঁর জীবনের পথচলা। মাত্র দুটি গাছ দিয়ে শুরু করেছিলেন চাষাবাদ, আর আজ শত শত গাছের আধুনিক আমবাগান থেকে বিদেশের বাজারে রপ্তানি হচ্ছে উন্নত মানের আম।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রাজারামপুর ইউনিয়নে গড়ে ওঠা আনছার আলীর এই আধুনিক আমবাগান এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। এখানে ব্যানানা ম্যাংগো, কাটিমন, চিয়াংমাই, কিং অব চাকাপাত এবং আর-টু-ইটুসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি উচ্চ ফলনশীল জাতের আমের চাষ হচ্ছে। নিরাপদে আম উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতিটি ফলে ব্যবহার করা হয়েছে ব্যাগিং প্রযুক্তি। এতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে এবং ফলের গুণগত মান অক্ষুণ্ন থাকে।
আনছার আলী জানান, ২০২০ সালে ব্যানানা ম্যাংগো আম কিনতে গিয়ে দেখেন প্রতি কেজির দাম ৭৫০ টাকা। তখন ভাবলেন, আম না কিনে গাছ লাগিয়ে দেখা যাক। সেখান থেকেই শুরু। পরে ২০২২ সালে ৬৫০টি গাছ লাগান তিনি। ২০২৪ সালে প্রথমবার তাঁর বাগানের আম বিদেশে রপ্তানি শুরু হয়।
বাগানের নিয়মিত শ্রমিকরা জানান, তারা প্রথম থেকেই এই বাগানে শ্রম দিচ্ছেন। বাগানের পরিচর্যা, পানি দেওয়া, সার প্রয়োগ এবং আগাছা পরিষ্কারের পাশাপাশি আম প্যাকিং ও পাহারার কাজ করেন তারা। এই কাজের মাধ্যমেই তাদের সংসার চলে। স্থানীয় দর্শনার্থীরাও এই বাগান দেখে মুগ্ধ এবং আধুনিক পদ্ধতিতে আম চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
রপ্তানির লক্ষ্যে বাগানের মাটি, পানি ও এমআরএল পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফজালুর রহমান। তিনি বলেন, গ্যাপ প্রটোকল অনুসরণ, নিয়মিত পরামর্শ এবং ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ আম উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা আনছার আলীর এই সফলতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে, আনছার আলীর এই বাগান তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন