রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আমন ধান চাষের জন্য জমিতে শুরু হয়েছে ব্যস্ততা

কৃষি ডেস্ক

জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

আমন ধান চাষের জন্য জমিতে শুরু হয়েছে ব্যস্ততা

ছবি: দিনাজপুর টিভি

উত্তরাঞ্চলে এখন আমন ধান চাষের মূল মৌসুম। বর্ষার আগমন ও পর্যাপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে কৃষকরা কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন জমি প্রস্তুত করার কাজে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হালচাষ, মই দেওয়া, জমিতে সার প্রয়োগ এবং বীজতলা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।কৃষকদের এই কর্মব্যস্ততা জানান দিচ্ছে ভালো ফলনের স্বপ্ন।আমন ধানের ফলন ভালো পেতে হলে জমি প্রস্তুতের কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

কৃষকরা জমিতে প্রয়োজনীয় জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করছেন, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে নরম ও সমতল করা হচ্ছে, যাতে ধানের চারা সহজে রোপণ করা যায় এবং সঠিকভাবে বাড়তে পারে। মাটির সঠিক আর্দ্রতা বজায় রাখতেও সতর্ক রয়েছেন চাষিরা।আধুনিক ও সনাতন পদ্ধতির মেলবন্ধন দেখা যাচ্ছে মাঠে।

অনেক কৃষক আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম ব্যবহার করে দ্রুততার সঙ্গে জমি প্রস্তুত করছেন। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টেিলারের সাহায্যে কম সময়ে বেশি জমি চাষ করা সম্ভব হওয়ায় শ্রম ও সময় উভয়ই সাশ্রয় হচ্ছে। তবে এখনো অনেক ছোট কৃষক সনাতন পদ্ধতিতে লাঙ্গল ও গরুর সাহায্যে জমি চাষ করছেন, যা গ্রামীণ কৃষি ঐতিহ্যের চিত্র ফুটিয়ে তোলে। উভয় পদ্ধতিতেই কৃষকরা তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাচ্ছেন।বীজতলা তৈরি ও চারার পরিচর্যাও সমান তালে চলছে।

উন্নত জাতের ধানের বীজ ব্যবহার করে বীজতলায় চারাগুলোকে সঠিক পুষ্টি দিয়ে বড় করে তুলছেন কৃষকরা। সুস্থ ও সবল চারা রোপণ করলে ফলন ভালো হয়, তাই বীজতলার মাটি তৈরি ও চারাগুলোকে রোগমুক্ত রাখতে বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য আমন ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের একটি বড় অংশের চাল এই মৌসুমেই উৎপাদিত হয়।অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমে এবারও আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।