রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জি-নাইন জাতের কলার বাণিজ্যিক চাষে নতুন সম্ভাবনা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ১০, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম

জি-নাইন জাতের কলার বাণিজ্যিক চাষে নতুন সম্ভাবনা

জি-নাইন জাতের কলা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল জি-নাইন বা গ্র্যান্ড নাইন জাতের কলার বাণিজ্যিক চাষ করে কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শাহ আলম জমাদ্দার নামের এক কৃষক। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ ও উপজেলা কৃষি বিভাগের নিবিড় পরামর্শের মাধ্যমে তিনি এই লাভজনক সমন্বিত বাগান গড়ে তুলেছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্য এলাকার কৃষিখাতে একটি কার্যকর মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

কম খরচ ও স্বল্প সময়ে ভালো ফলন পাওয়ায় স্থানীয় অন্য কৃষকদের মাঝেও এখন এই জাতের কলা চাষে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছেন রণগোপালদী ইউনিয়নের দক্ষিণ রণগোপালদী গ্রামের এই বাসিন্দা। প্রচলিত নানা জাতের ফলের পাশাপাশি নতুন ফসলের প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকে অনলাইনে বিভিন্ন ভিডিও দেখে তিনি এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেন। 

প্রথমে রংপুরের একটি নার্সারি থেকে একশটি টিস্যু কালচার চারা সংগ্রহ করে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তার বাগানে দেড় শতাধিক পূর্ণাঙ্গ গাছ রয়েছে। প্রায় দুই একর জমিতে বারো ফুট দূরত্ব বজায় রেখে কলার চারা রোপণ করার পাশাপাশি তিনি ফাঁকা জায়গায় আমের চারাও লাগিয়েছেন।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় তাকে নগদ আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তিরিশটি চারা ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। 

কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত তার বাগান পরিদর্শন করে রোগবালাই দমন ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এই বিশেষ জাতের কলার আকার সাধারণ কলার চেয়ে বেশ বড় হয় এবং প্রতিটি কাঁদিতে প্রায় আড়াইশো থেকে তিনশোটি পর্যন্ত ফল ধরে।বর্তমানে ওই কৃষকের বাগানের পনেরো থেকে ষোলোটি গাছে ফল এসেছে এবং তিনি নিজস্ব নার্সারি থেকে প্রতিটি চারা ন্যূনতম একশ টাকা দরে বিক্রি করে বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করেছেন। 

বাগান স্থাপনের প্রাথমিক পর্যায়ে তার মাত্র পনেরো থেকে বিশ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল। অন্যান্য ফসলের তুলনায় এই চাষে শ্রমের প্রয়োজন কম হওয়ায় তিনি নিয়মিত রাসায়নিকের বদলে সীমিত পরিসরে প্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগ করেন। বাগানটি দেখতে আসা স্থানীয় সাংবাদিক ও দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন যে এমন পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন কৃষিকাজ পুরো দক্ষিণাঞ্চলের ফলের চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ জানিয়েছেন যে এটি একটি রোগসহনশীল ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক জাত হওয়ায় কৃষকরা সহজেই ভালো আয় করতে পারবেন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়নে এমন নতুন কৃষি উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।