আগস্ট ১১, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
ধান চাষে ফলন বাড়াতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে সঠিক সময়ে আগাছা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। চারা রোপণের পর জমিতে ঘাস বা আগাছা জন্ম নিলে তা ধান গাছের পুষ্টি কেড়ে নেয় এবং ফলনে ব্যাপক ঘাটতি তৈরি করে। এই সমস্যা সমাধানে কৃষকদের জন্য সিস্টেমিক বা পদ্ধতিগত আগাছানাশক ব্যবহার সবচেয়ে কার্যকর বলে বিবেচিত হচ্ছে।সঠিক রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে ধানের কোনো ক্ষতি না করেই জমি শতভাগ আগাছামুক্ত রাখা সম্ভব।
সাধারণত আগাছানাশক দুই ধরনের হয়ে থাকে, যার মধ্যে ধানের জমিতে সিস্টেমিক আগাছানাশক ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। চারা রোপণের বাহাত্তর ঘণ্টা বা তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আগাছা জন্মানোর আগেই পেটিলাক্লোর পঞ্চাশ শতাংশ ইসি প্রয়োগ করা যেতে পারে। এই ওষুধ ব্যবহারের সময় জমিতে অবশ্যই এক থেকে দুই ইঞ্চি পানি থাকতে হবে এবং বালুর সঙ্গে মিশিয়ে তা সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। প্রতি একর জমির জন্য ৫০০ মিলিলিটার এবং প্রতি বিঘায় ১৫০ গ্রাম হারে এটি ব্যবহার করলে আগাছা জন্মানোর আর কোনো সুযোগ থাকে না।
যেসব জমিতে ইতিমধ্যে প্রচুর ঘাস জন্মে গেছে, সেখানে পোস্ট-ইমারজেন্স বা আগাছা জন্মানোর পর ব্যবহারের ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। ধান গাছের বয়স ২০ থেকে ২৫ দিন হলে বিস্পাইরিব্যাক সোডিয়াম ১০ শতাংশ এসসি ব্যবহার করে দুর্দান্ত ফল পাওয়া যায়। আগাছার ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে প্রতি ১৫ লিটার পানিতে ১০ থেকে ১৫ মিলিলিটার ওষুধ মিশিয়ে স্প্রে করলে ঘাসের শেকড় পর্যন্ত পচে যায়।
জমিতে যদি জেদি প্রকৃতির ঘাস থাকে যা সহজে মরতে চায় না, তবে বিস্পাইরিব্যাক সোডিয়ামের সঙ্গে বিশেষ পাউডার মেশানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ট্রাইফাম ২০ শতাংশ এবং ইথক্সি সালফিউরন ১০ শতাংশ মিশ্রিত পাউডার প্রতি একরে ২০০ গ্রাম হারে প্রয়োগ করতে হয়। এক লিটার পানিতে এক গ্রাম পাউডার মিশিয়ে স্প্রে করলে ধানের পাতা হলদে না হয়েই জমি সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যায়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন