বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

কৃষিতে বিদেশফেরত যুবকের বিশাল সাফল্য

কৃষি ডেস্ক

আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

কৃষিতে বিদেশফেরত যুবকের বিশাল সাফল্য

পড়াশোনা শেষ করে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ায় বাবা অভিমান করে প্রায় দুই মাস কথা বলেননি। গ্রামের মানুষও তাঁকে নিয়ে নানা কটূক্তি করত, যার কারণে একসময় লজ্জায় জনসমক্ষে আসা বা চায়ের দোকানে বসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন এই তরুণ। তবে প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের জোরে সেই যুবকই আজ দেশজুড়ে একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। মাত্র ১৩ বিঘা জমি দিয়ে ফলের বাগান শুরু করে বর্তমানে তিনি ১০৬ বিঘার এক বিশাল খামার গড়ে তুলেছেন।

বিদেশে কয়েক বছর থাকার পর দেশে ফিরে তিনি চার-পাঁচটি ব্যবসায় বিনিয়োগ করে টানা তিন থেকে চার বছর কেবল লোকসানের সম্মুখীন হন। এরপর আর অন্য ব্যবসার দিকে না গিয়ে নিজেদের বাপ-দাদার পেশা কৃষিকাজেই মনোনিবেশ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে গতানুগতিক ধান বা পাটের চাষ থেকে বেরিয়ে তিনি লাভজনক ও আধুনিক ফল চাষের পরিকল্পনা করেন। পড়াশোনা জানা এক যুবকের এমন সিদ্ধান্তে শুরুতে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন এবং নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে স্থানীয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আতাউল্লাহ জুবায়েরের নিবিড় পরামর্শ ও নির্দেশনায় তিনি এই ফলের বাগান শুরু করেন। বিশেষ করে কাশ্মীরি কুল চাষ করে তিনি গোটা দেশে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর বাগান থেকে প্রায় দুই লাখ ফলের চারা সারা দেশে বিক্রি হয়েছিল বলে জানা যায়। তাঁর বাগানে উৎপাদিত পুষ্টিকর এই ফলের বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং প্রতি কিলোগ্রাম ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।

যে বাবা একসময় ছেলের কৃষিকাজ মেনে নিতে পারেননি, আজ ছেলের এই অভাবনীয় সাফল্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি আনন্দিত। এখন তিনি প্রতিদিন ছেলের বাগানে দীর্ঘ সময় কাটান এবং খামারের বিভিন্ন কাজে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। তরুণ এই সফল উদ্যোক্তার মতে, শিক্ষিত তরুণেরা আধুনিক কৃষিতে যুক্ত হলে নিজেদের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি দেশের সার্বিক অর্থনীতিও অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।