রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সুপারির বাম্পার ফলন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুদিন দেখছেন চাষিরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৫, ১১:২৩ পিএম

সুপারির বাম্পার ফলন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুদিন দেখছেন চাষিরা

ছবি - সংগৃহীত

ভোলার লালমোহন উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে এখন সুপারি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ধান ও শাকসবজির পাশাপাশি এখন এই উপজেলার গ্রামে গ্রামে, বাড়ির আঙিনা, বাগানবাড়ি ও পতিত জমিতে সারি সারি সুপারি গাছ চোখে পড়ছে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সুপারি গাছের চারা একবার রোপণ করলে দীর্ঘদিন ফলন পাওয়া যায় এবং খরচও তুলনামূলকভাবে কম।

চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় সুপারির ব্যাপক বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে বাজারে আকারভেদে প্রতি 'বি' (৩২০ পিস) সুপারি ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলন বেশি হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।লালমোহনের এসব সুপারি শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। এগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পাঠানো হয়।

স্থানীয় অনেক পাইকার সরাসরি গ্রামে গ্রামে ঘুরে সুপারি কেনেন, ফলে চাষিদের বিক্রিতে কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয় না।লালমোহন উপজেলার গজারিয়া, কর্তারহাট, লর্ডহাডিঞ্জ, নাজিরপুর, মঙ্গলসিকদারসহ ছোট-বড় সবগুলো বাজারে এখন সুপারির বেচাকেনা জমজমাট। স্থানীয় আড়তদাররা চাষিদের থেকে সুপারি কিনে লালমোহন সদরের আড়তগুলোতে নিয়ে বিক্রি করেন।

লালমোহন বাজারের মেসার্স সওদাগর ভাণ্ডারের আলম সওদাগর জানান, লালমোহন পৌরশহরে প্রায় ৩০টি সুপারির আড়ত আছে। মূলত আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এই তিন মাস সুপারি বেচাকেনা হয়। বর্তমানে লালমোহন বাজারে দৈনিক অন্তত ৩০ লাখ টাকার মতো সুপারি বেচাকেনা হয়, যা মাসে প্রায় ১০ কোটি টাকা।

উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চাষি মো. শামিম পাটওয়ারী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দ্বিগুণ ফলন হয়েছে। ফলন কিছুটা ছোট হলেও বেশি হওয়ায় এ মৌসুমেও সুপারি বিক্রি করে বেশ লাভবান হবেন।

লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন এই বাম্পার ফলনের খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর দুই থেকে তিনগুণ বেশি সুপারির উৎপাদন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং পোকার আক্রমণ না থাকায় এমন ফলন হয়েছে, যা দেখে এলাকার মানুষ সুপারি চাষে আরও আগ্রহী হবেন।

স্থানীয় কৃষি সচেতন ব্যক্তিরা মনে করছেন, সুপারি চাষে ঝুঁকি কম এবং একবার পরিশ্রম করলে বছরের পর বছর লাভ আসতে থাকায়, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে আগামী কয়েক বছরে সুপারি লালমোহনের গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হবে।