ফাহিম হোসেন রিজু
অক্টোবর ৫, ২০২৫, ১২:০৯ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভালো ফলন ও বেশি লাভের আশায় অনলাইনে বেগুনের বীজ কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন কয়েকজন কৃষক। বীজ রোপণের চার মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত গাছে কোনো ফুল বা ফল ধরেনি।
উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের বলগাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানিয়েছেন, বীজ রোপণ থেকে চাষাবাদ পর্যন্ত তাদের এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ হয়েছে, যার পুরোটাই এখন লোকসানের মুখে।
বলগাড়ি গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, তিনি নিয়মিত বেগুনের চাষ করেন। গত বছর ভালো ফলন হওয়ায় সেই ছবি তিনি ফেসবুকে দেন। সেই ছবি দেখেই ওপি কোম্পানির রাসেল নামে এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের বারি-১২ জাতের বেগুন চাষের পরামর্শ দেন।
রবিউল ইসলাম নিজের জমি বর্গা নিয়ে দেড় বিঘা জমিতে সেই বীজ রোপণ করেন। তার দেখাদেখি আরও তিনজন কৃষক এই বীজ লাগান। দেখতে দেখতে ১২০ দিন পার হলেও গাছে কোনো ফুল বা ফল ধরেনি।
রবিউল বলেন, কোম্পানিকে ফোন দিলে তারা এখন বিভিন্ন টালবাহানা করছে এবং শুধু বিভিন্ন প্রকার ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছে। তাদের কথা মতো সব করেও আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমি যারা আমাদের এত বড় ক্ষতি করলো, তাদের বিচার চাই।
আরেক কৃষক তাজমল হক বলেন, আমার ২৫ শতক জমিতে এই বীজ লাগানোর চার মাস হয়ে গেলো। গাছে কোনো ফুল আসেনি, ফল তো দূরের কথা। কোম্পানি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
তবে বীজ বিক্রেতা রাসেল বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এটা মূলত শীতকালীন বেগুনের বীজ। শীতকালে ফল ধরবে। কিন্তু তারা আগাম চাষ করায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটা আসলে তেমন কোনও সমস্যা নয়।
ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান এই বিষয়ে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কয়েকজন কৃষক বেগুনের নতুন একটি জাত, যা 'লাউ বেগুন' নামে পরিচিত, সেটি অনলাইন থেকে কিনে প্রতারিত হয়েছেন।
তিনি কৃষকদের প্রতি পরামর্শ দেন, নতুন যেকোনো ফসল বা চারা অনলাইনে কেনার আগে অবশ্যই কৃষি অফিসকে দেখানোর মাধ্যমে এর বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া যায় কিনা, তা বিবেচনা করা হবে। এছাড়া প্রতারণাকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।